সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চরম আবহাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে ফসলের উৎপাদন। এতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যপণ্যের দাম। এমনকি প্রায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে পণ্যের দর।
সুপার এল নিনো হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বের নানা প্রান্তে তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড় দেখা দেয়।
মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনোর চক্রটি বিশ্বজুড়ে বন্যা ও খরার ঝুঁকি বাড়িয়ে ফসল উৎপাদন এবং খাদ্য সরবরাহকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষকেরা বলছেন, এল নিনো ইতিমধ্যেই খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এতে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়েই। তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এর চূড়ান্ত পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে ২০২৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে।
ভারতের উদাহরণ টেনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে বর্ষা মৌসুম শুষ্ক হয়ে উঠেছে। কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এমনকি ভারতের মধ্যাঞ্চলের কিছু অংশে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের মাত্র ৫০ শতাংশ। এর প্রভাবে দেশটিতে গম, চাল ও আখ উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ইতালির ব্যাংক ইউনিক্রেডিটের তথ্য অনুসারে, সুপার এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত থমকে যেতে পারে, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার। আর প্রধান প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে চাল, চিনি, কফি ও পাম অয়েলের দাম।



