ভারতের রাজধানী দিল্লি প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয় এর অত্যধিক দূষিত বাতাসের কারণে। এবার হলো দূষণের প্রভাবে দিল্লির অন্যতম আইকনিক স্থাপনা লাল কেল্লার কালো হয়ে যাওয়ার কারণে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অত্যধিক বায়ুদূষণের কারণে দিল্লির লাল কেল্লার ওপর কালো আস্তর পড়ছে।
গবেষকরা বলছেন, দূষণকারী পদার্থ এবং লাল বেলেপাথরে তৈরি কেল্লার দেয়ালের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে তৈরি এই আস্তরণগুলো দশমিক শূন্য ৫ মিলিমিটার থেকে দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরু। এই আস্তরগুলো কেল্লার জটিল নকশার ক্ষতি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।
দিল্লির এই বিখ্যাত লাল কেল্লা মুঘল স্থাপত্যশৈলির এক অনন্য নিদর্শন। সতেরো শতকের এই কেল্লার ওপর বায়ুদূষণের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে এটিই প্রথম কোনো গবেষণা। ব্যাপক পরীক্ষা‑নিরীক্ষার মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাটি করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর দিল্লি। বিশেষ করে শীতকাল বাশুষ্ক মৌসুমে শহরটির বায়ুমান অত্যন্ত নিম্নস্তরে নেমে যায়, যা প্রায়শই সংবাদের শিরোনাম হয়।
পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিবর্গ প্রায়শই বায়ুদূষণের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেন। বিশেষত জাতীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শনগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে নানা সময়ে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন যে, সাদা মার্বেলে নির্মিত সতেরো শতকের বিখ্যাত সমাধি সৌধ তাজমহল বায়ু ও পানি দূষণের কারণে হলুদ এবং সবজে-বাদামী রঙের হয়ে গেছে। সে সময় তাজমহল সংরক্ষণের জন্য উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট।
লাল কেল্লা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গবেষণাটি ওপেন অ্যাক্সেস বৈজ্ঞানিক জার্নাল 'হেরিটেজ'-এ জুন মাসে প্রকাশিত হয়। গবেষণাটি ২০২১ ও ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত ও ইতালির গবেষকেরা যৌথভাবে পরিচালনা করেন।
শুধু মুঘল আমলে নয়, বহু পরে ভারতের স্বাধীনতার সঙ্গেও এই লাল কেল্লা জড়িয়ে আছে। বিবিসি জানায়, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ১৯৪৭ সালের ১৬ আগস্ট ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার একদিন পরে এই কেল্লা থেকেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। সে সময় থেকে আজ অবধি ভারতের প্রধানমন্ত্রীরা এই কেল্লার চত্বর থেকেই স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেন।
গবেষকরা ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দিল্লির বায়ুর মানের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তারপর তাঁরা কেল্লার গায়ে পাওয়া কালো আস্তর সংগ্রহ করে, তা পরীক্ষা করেন। গবেষণায় দেখা যায়, বায়ুতে থাকা দূষিত পদার্থ কেল্লার দেয়ালের সাথে বিক্রিয়া করে এই কালো আস্তর তৈরি করছে। এতে কেল্লার স্থাপত্য কাঠামোটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গবেষকরা কেল্লা‑প্রাচীরে কিছু কিছু অংশে আস্তর উঠে যাওয়ার লক্ষণও দেখেছেন। গবেষকেরা বলছেন, বাতাসের সংস্পর্শে থাকা অংশে পিএম ২.৫ ও পিএম ১০ (পার্টিকুলেট ম্যাটারের ধরন) পার্টিকুলেট ম্যাটারের কারণে এই ঘটনা ঘটছে। সময়ের সাথে সাথে প্রথমে মলিন হওয়া দেয়ালগুলো ক্রমে কালো হয়ে যাচ্ছে। কেল্লা রক্ষা করতে হলে দ্রুত একটি সংরক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।