বিশ্বের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আইকিউএয়ার–এর সর্বশেষ প্রতিবেদন। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের যে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, দূষণের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান, আর তার ঠিক পরেই অবস্থান বাংলাদেশের। অর্থাৎ, সবচেয়ে খারাপ বায়ুর তালিকায় বাংলাদেশের নিচে আছে শুধু পাকিস্তান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে বছরে গড় সূক্ষ্ম ধূলিকণার মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৬৭ দশমিক ৩ মাইক্রোগ্রাম, আর বাংলাদেশে তা ৬৬ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমা প্রতি ঘনমিটারে মাত্র ৫ মাইক্রোগ্রাম।
এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে তাজিকিস্তান। এরপর আফ্রিকার দেশ চাদ ও কঙ্গো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৩টি দেশের মধ্যে ১৩০টিতেই দূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থায় তালিকার ওপরের দিকে না থাকলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২৫টি শহরের প্রায় সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান ও চীনে অবস্থিত, যার মধ্যে ভারতেরই রয়েছে শীর্ষ কয়েকটি শহর।
অন্যদিকে, পরিষ্কার বায়ুর দিক থেকে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর তালিকাও দিয়েছে সংস্থাটি। যেসব দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড পূরণ করেছে, সেগুলোর মধ্য থেকে শীর্ষ ১০টি হলো—
১. ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া
২. পুয়ের্তো রিকো
৩. ভার্জিন আইল্যান্ড
৪. বার্বাডোস
৫. নিউ ক্যালেডোনিয়া
৬. আইসল্যান্ড
৭. বারমুডা
৮. ফ্রেঞ্চ রিইউনিয়ন
৯. অ্যান্ডোরা
১০. অস্ট্রেলিয়া
প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে মাত্র ১৪ শতাংশ শহর নিরাপদ বায়ু মানের মধ্যে রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় কম।
দাবানল, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শিল্পখাতজনিত দূষণ — এই তিনটিকে বায়ু মান খারাপ হওয়ার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বড় বড় দাবানল বায়ুর মান খারাপ করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৈশ্বিক বায়ু পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক দেশে তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।



