প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে বাঁচাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পর্যটন। গবেষকরা বলছেন, পর্যটনের চাপে দ্বীপে ভাঙন বাড়ছে। বিলুপ্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র। তাই দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে মানা জরুরি। আর জাহাজ পরিচালনা সংস্থার দাবি, তাদের সাথে কথা না বলেই দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।
থাইল্যান্ডের কোরাল আইল্যান্ড, প্রবাল দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। সেখানে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের ফলে দ্বীপের প্রবালসহ জীববৈচিত্র বেশ সুস্থ আছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের চিত্র ভিন্ন।
করোনার সময় সৈকতের প্রবাল দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধণ করে হোটেল মোটেলগুলো। কেয়া বন ও নারিকেল বাগান উজাড় করে গড়া হয় কয়েকশ কটেজ। পরিবেশ সংরক্ষিত এলাকায় এমন অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনে, ধ্বংসের মুখে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য।
দ্বীপটি বাঁচাতে পর্যটনে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। কেবল ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবে পর্যটকরা। তবে এ বিষয়ে দ্বিমত সি ক্রুজ পরিচালনাকারী সংস্থার।
সি ক্রুস অপারেটর অনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, এরই মধ্যে তো সংকুচিত করে ফেলেছে, ২ হাজার লোকের যেটি। এ ছাড়া যে শর্ত দিয়েছে, সেটা কতটুকু কার্যকর করতে পারবে সেটা একটি বিষয়। পর্যটনের জন্য সম্পূর্ণ সাংঘার্ষিক। ভিন্নভাবে এই শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা যেত, আমাদের সাথে বসে যদি সিদ্ধান্ত নিত।
পর্যটন মৌসুমে দ্বীপ জুড়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন। তাই স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
ড. কাজী আহসান হাবিব বলেন, এখানে গার্ড নিয়োগ করতে হবে। সম্পূর্ণ সেন্টমার্টিনে ১০/১২ জন গার্ড রাখলে এটা সরকারের জন্য বড় বিষয় না। এটা করলে ভালো জীববৈচিত্র দেখতে পাব।
স্বচ্ছ নীল পানির নিচের বর্ণিল মাছ আর বিস্তীর্ণ প্রবাল প্রাচীরই সেন্টমার্টিনের বৈশিষ্ট্য। এখানে এক সময় একশ প্রজাতির প্রবাল থাকলেও এখন নেমেছে অর্ধেকে।