ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ মোকাবেলায় কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার থেকে দেশটির রাজধানী অঞ্চলে শুরু হয়েছে ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রক্রিয়া।
বায়ুর গুণমান সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় বর্তমানে পাকিস্তানের লাহোরের পর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দিল্লি। ভারতের পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী মানজিন্দার সিং সিরসা জানিয়েছেন যে, দিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
‘ক্লাউড সিডিং’ হচ্ছে আবহাওয়া পরিবর্তনের একটি কৌশল। ‘ক্লাউড’ অর্থ মেঘ, আর ‘সিডিং’ মানে হলো বপন করা। অর্থাৎ, ‘ক্লাউড সিডিং’ শব্দগুচ্ছের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, মেঘ বপন, বা মেঘের বপন।
‘ক্লাউড সিডিং’ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে মেঘের অভ্যন্তরে ছোট ছোট রাসায়নিক কণা প্রবেশ করানো হয়, যার চারপাশে জলীয় কণা জমা হয়ে এক পর্যায়ে তা বৃষ্টির ফোঁটায় পরিণত হয়। এভাবে মেঘের মধ্যে রাসায়নিক কণা যুক্ত করে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোই হচ্ছে হচ্ছে ‘ক্লাউড সিডিং’।
দিল্লিতে অভিনব এই ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রথমবারের মতো আজ থেকে শুরু হলেও, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই ‘ক্লাউড সিডিং’ ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে খরা চলাকালীন সময়ে বাতাসের মান উন্নত করতে, কিংবা ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টির ব্যবস্থা করতে এই প্রক্রিয়াটি অবলম্বন করেছে তাঁরা।
তবে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটাতে ‘ক্লাউড সিডিং’ পদ্ধতিটি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। ‘ক্লাউড সিডিং’ নিয়ে গবেষণাতেও মিশ্র ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে।
পরিবেশমন্ত্রী মানজিন্দার সিং সিরসা বলেছেন যে, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বিশ্বাস করে ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ‘১৫ মিনিট থেকে ৪ ঘন্টার মধ্যে যেকোনো সময় এবং যেকোনো পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে সিরসা আরও বলেন, ‘এই পরীক্ষাগুলো সফল প্রমাণিত হলে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।’
আইআইটি-কানপুর কর্তৃক শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা গেছে যে, মেঘলা আকাশে ওড়ার সময় একটি বিমান থেকে নির্গত হচ্ছে রাসায়নিক পদার্থ। বিমানটির সাথে সংযুক্ত একাধিক ফ্লেয়ার থেকে বের হয়েছে এই পদার্থ, যেটা আকাশে মেঘের সাথে যুক্ত হয়েছে।
প্রতি বছর শীতকালে দিল্লি এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে দূষণের পরিমাণ বেড়ে যায়। কারণ নির্মাণ কাজের ধুলো থেকে শুরু করে গাড়ির ধোঁয়া ও ফসলের আগুন থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া- এই সবই শীতের সময় ঠাণ্ডা, ভারী বাতাসে আটকে যায়। ফলে শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতায় ভোগেন ২ কোটি দিল্লিবাসীর অনেকেই।
ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার বিকেলে শহরের বাতাসের গুণমান সূচক ছিল ৩০৪, যা 'খুব খারাপ' হিসেবে বিবেচত। বোর্ডের মতে, বাতাসের গুণমান সূচক যদি শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে হয়, তবেই একে 'ভালো' বলে অভিহিত করা যায়।
আইআইটি-কানপুরের বিজ্ঞানী মনিন্দ্র আগরওয়াল বলেছেন যে, ক্লাউড সিডিং দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম বৃষ্টি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দূষণ কমিয়ে আনতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘যদি বৃষ্টি হয়, দূষণ কমে আসে, (কিন্তু) এটা আবার বেড়ে যাবে (দূষণের) উৎস... দূর না হওয়ার কারণে। তাই, যখনই মেঘের আস্তরণ থাকবে, তখনই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করতে হবে।’