সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ন্ত্রণ কার হাতে

সেন্টমার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করছে বহিরাগতরা। এতে স্থানীয়দের যুক্ত করা না গেলে দ্বীপবাসীর উন্নয়ন হবে না। তাই তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান আর জীববৈচিত্র রক্ষায় মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যেখানে ১০ বছরে ২৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।

সাড়ে আট বর্গকিলোমিটারের প্রবাল ঘেরা দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটকের চাপ না থাকলে ফুটে ওঠে নিজ মহিমায়। জোয়ার-ভাটায় স্বচ্ছ নীল জলে ভেজা সৈকত রূপ নেয় শিল্পীর ক্যানভাসে।

এখানে ম্যানগ্রোভ ঝোপঝাড়ে আছে প্রায় ২৭০ প্রজাতির গাছ। শীতে আসে পরিযায়ী পাখি। পানির নিচে ৬৬ প্রজাতির প্রবাল। যা প্রতিবেশ ভারসাম্য রক্ষা করছে। তবে পর্যটনের অপরিকল্পিত বিকাশে চরম হুমকিতে এ দ্বীপ। শতাধিক দালানের বেশিরভাগে স্থানীয়দের মালিকানা নেই। আর প্রবাল কেটে রিসোর্টে ব্যবহার করায় বাড়ছে ভাঙন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দু একটা হোটেল ঠিকমতো আছে, বাদবাকি সব নাই। 

আগে মৌসুমে দিনে সাত হাজারের বেশি পর্যটক আসতেন এখানে। যা এখন নেমেছে ২ হাজারে, মানতে হচ্ছে ১২টি শর্ত।

বন্যপ্রাণী গবেষক ড. রেজা খান বলেন, সেই ধরনের পর্যটক আনতে হবে যারা বুঝতে পারেন সেন্টমার্টিনে গিয়ে আমি এসি রুম পাব না। তাদের বুঝতে হবে এসব করলে দ্বীপটা ধ্বংস হয়ে যাবে। 

২০৩৫ সাল নাগাদ এখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে চায় সরকার। স্থানীয়দের স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের জন্য নেওয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আগের পেশা মৎস্য আহরণে নেওয়া যেতে পারে। কৃষি খাতটা দেখা যেতে পারে। মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা করা যাতে পারে। এগুলো আমরা মাস্টার প্ল্যানে নিয়ে এসেছি। 

পর্যটকদের সাথে জলজ প্রাণের পরিচয় করাতে এরই মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে জাদুঘর। সেখানে আছে ডলফিন, প্রবালসহ ৫০০ নমুনা।