নতুন বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগে কঠোর হতে হবে সরকারকে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে বিশেষায়িত একটি ইউনিট গঠনের পরামর্শ প্রাণী গবেষকদের।
তারা বলছেন, আইনের বিধি বিধান শুধু কাগজে কলমে থাকার জন্য নয়। বন্যপ্রাণী রক্ষার এই যুগান্তকারী আইনটির বিধিবিধান নিয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।
দেশে প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঙ্গল টাইগার টিকে আছে কেবল সুন্দরবনে। অথচ তার আশ্রয়স্থল এখন সবচেয়ে ঝুঁকিতে। গেল দুই যুগে এখানে অন্তত ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি বাঘ পিটিয়ে বা চোরা শিকারিদের হাতে মারা পড়ে।
গেল এক দশকে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় শতাধিক বন্যহাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। যার বেশিরভাগই মারা যায় মানুষের সাথে দ্বন্দ্বে, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে অথবা গুলি বা বিষ প্রয়োগে।
নতুন আইনে দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড, এক থেকে সাত লক্ষ টাকা জরিমানর বিধান রাখা হয়েছে বাঘ বা হাতি শিকারে। এ ছাড়াও ভাল্লুক, নেকড়ে,বানর, হনুমান,বনরুইসহ দেশীয় স্তন্যপায়ী ও ২৪৭ প্রজাতির বন্য প্রাণী হত্যায় জামিন অযোগ্য শাস্তির বিধান রাখান হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ জামান বলেন, ‘যদি শাস্তির আওতায় নিতে পারি এবং সেগুলো সারা দেশবাসীকে জানাতে পারি। পত্র–পত্রিকাতো নিশ্চয়ই লিখবে যে, বন্যপ্রাণী বিষয়ক এই অপরাধের জন্য লোকগুলোকে সরকার এই ধরনের শাস্তি দিয়েছে। তাহলে অন্য জনগণ সতর্ক হবে। এতে কেউ বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত তো করবেই না, বরং কেউ ক্ষতি করলে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেবে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বিজ্ঞাপন ও নিষ্ঠুর আচরণের ভিডিও প্রকাশ করাকে এই আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. আলী রেজা খান বলেন, ‘পুলিশ, আর্মি বা বিজিবি যারাই আছেন তারা এমনভাবে সম্পৃক্ত থাকবে যে, আইনের লঙ্ঘনের ঘটনা বনবিভাগ ঠেকাতে গেলে সবাই যেন তাদেরকে সমর্থন করে। এক্ষেত্র যদি দুর্বলতা দেখা যায়; যেমন দেখা গেল বিমানবন্দর থেকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে কাস্টমস বলল এটা তাদের আইনের মধ্যে পড়ে না, এগুলো থেকে উত্তরণ করে আমাদের আইন প্রয়োগ করতে হবে।’
বংলাদেশ বন্যপ্রাণী পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা- সাইটিসের নিষেধাজ্ঞায় লাল তালিকাভুক্ত হয়ে আছে ২০২৪ সাল থেকে। এই আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ফিরে পাবার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন প্রাণী গবেষকরা।