পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই সুন্দরবনের শূন্য কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। মোংলার জয়মনিগোলে পশুর ও শ্যালা নদীর প্লাবন ভূমিতে নির্মাণ হচ্ছে ইকো রিসোর্ট। স্থানীয় ও গবেষকদের অভিযোগ, নদীর পাড়ে জেলেপল্লি উচ্ছেদ করে ৫ বছর ধরে হচ্ছে এই স্থাপনা। অথচ সুন্দরবনের বাফার জোনে বাণিজ্যিক নির্মাণ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বিরোধী।
মোংলায় পশুর নদীর গা ঘেঁষে প্রবাহমান শ্যালা নদী। জয়মনিগোলের ঠুটা থেকে প্রবাহিত হয়ে এই নদী সুন্দরবনের দক্ষিণে দুবলার চর হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। শ্যালার ওপারে চাঁদপাই অংশ সুন্দরবনের অভয়ারণ্য। কিন্তু গেল কয় বছরে পাল্টে গেছে নদীর মোহনার চিত্র।
২০২০ সালের আগেও এই নদীর পাড়ে জেলেদের বসতি ছিল। ২০২১ সাল থেকে এখানকার চিত্র পাল্টাতে থাকে। এখন আর সেখানে জেলেপল্লি নেই। মাঝির খাল নামে একটি জলপ্রবাহ বালু দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কয়েক বছর আগে। শ্যালা ও পশুর নদীর এই মোহনায় গড়ে উঠেছে উঁচু ইমারত। পাঁচ বছর ধরে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি কনক্রিটের বহুতল ভবন।
শ্যালা নদীর পাড়ে ২ দশমিক ৬ একর জায়গা জুড়ে এই স্থাপনা। ভবন মালিক জানান, এই প্রকল্পে এখনো কোনো পরিবেশের ছাড়পত্র নেয়া হয়নি।
শ্যালা ইকো রিসোর্ট স্বত্বাধিকারী পারভেজ হক বলেন, ‘বাধ্যতামূলক যে লাইসেন্স তা পেয়েছি। তবে পরিবেশের ছাড়পত্র নেয়া হয়নি।’
সুন্দরবনের শূন্য কিলোমিটারের মধ্যে এমন স্থাপনা পরিবেশ বিধ্বংসী বলে মনে করেন গবেষকেরা। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, ‘প্রান্তিক মানুষকে উচ্ছেদ করে এমন ব্যবসায়িক স্থাপনা অমানবিক। দুঃখের বিষয় হলো এই সংবেদনশীল জায়গাগুলো প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে।’
সুন্দরবনের আশপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকা পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। তাই এখানে পরিবেশ বিধংসী কোনো কিছু করতে দেয়া হবে না বলে জানান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।
পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যের বনে সুন্দর– বনের সেই পরিবেশটা আমাদের রক্ষা করতে হবে। অভয়ারণ্য এবং এর নিরাপত্তা ঠিক রেখে আমাদের ট্যুরিজম ব্যবস্থাপনা করতে হবে।’
গবেষকেরা বলছেন, সুন্দরবন রক্ষায় একটি পরিবেশগত সমীক্ষা ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।