সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের উপদ্রবে হরিণসহ নানা পশু-প্রাণীর জীবন বিপন্ন। পুরো বনজুড়ে যেখানে সেখানে পাতা হচ্ছে অসংখ্য ফাঁদ। হরিণ শিকারের জন্য ফাঁদ পাতা হলেও বাঘ, বানরসহ আটকা পড়ছে অন্যান্য প্রাণীও। মামলা-গ্রেপ্তারেও কমছে না শিকারীদের দৌরাত্ম্য। দ্রুত টহল জোরদারের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান বনবিভাগের কর্মকর্তাদের।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের হরিণ এখন চোরা শিকারিদের প্রধান টার্গেট। অবৈধভাবে মাংস বিক্রির জন্য বনজুড়ে হরিণ ধরতে মালা, ছিটকাসহ নানা ফাঁদ পেতে রাখছে তারা। গত ৪ জানুয়ারি এমনই এক ফাঁদে আটকা পড়ে একটি বাঘ। পরে সেটিকে উদ্ধার করেন বনবিভাগের কর্মীরা।
মূলত হরিণ চলাচলের পথে এসব ফাঁদ বসানো হয়। আর এতে আটকা পড়ে বাঘ, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী। গত ১১ মাসে এমন কয়েক হাজার ফাঁদ শনাক্ত করেছে বনবিভাগ।
সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম রেঞ্জে গত দুই বছরে ১ হাজার ১৪৮ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৬২টি মামলায় গ্রেপ্তার অন্তত ৮১ জন।
বাগেরহাটের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘এই ১১ মাসে আমরা প্রায় ৯০ হাজার ফুট ফাঁদ পেয়েছি। প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এই ফাঁদ যদি আমরা তুলতে না পারতাম তাহলে হয়তো ২–৩ হাজার হরিণ মারা যেতে পারত।’
বন কর্মকর্তারা বলছেন, শিকারির উপদ্রব কমাতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, নৌযান সংখ্যা ও টহল বাড়ানো এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরি জরুরি।