সড়কের পাশে, রোড ডিভাইডার বা ঝিল-পার্কের গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গোড়ায় মাটি না থাকায় ঝড়ো হাওয়ায় উপড়ে পড়ছে এসব গাছ। গবেষক ও নগরবিদরা বলছেন, ভুল প্রজাতির গাছ দিয়ে নগরে সবুজায়ন হয়েছে। পরিচর্যার অভাবে এসব গাছ এখন জনজীবনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনার তাগিদ তাদের।
রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানের একটি শিরিশ গাছ উপড়ে পড়েছে ঝড়ে। বিশালাকার গাছটির উচ্চতা ও ডালপালা ধরে রাখার জন্য গোড়ায় যথেষ্ট মাটি ছিল না।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে থাকা নিম গাছটিও ঝড়বৃষ্টিতে ভেঙ্গে পড়েছে। হাতিরঝিলের কৃষ্ণচূড়া গাছ পড়ে আছে ফুটপাতে। কালবৈশাখীর হানায় সেখানকার কৃষ্ণচূড়া, কাঠবাদাম, কদম, কণকচূড়াসহ ১০টি গাছ উপড়ে পড়েছে।
সবুজের আচ্ছাদন ও ছায়া পাওয়ার আশায় এক যুগ আগে এসব গাছ লাগানো হয়। সড়কের পাশে ফুটপাতে ৬ ফুট জায়গা আলাদা করে বরাদ্দ করা হয় গাছের জন্য। এক যুগে গাছগুলো দৈর্ঘ্যে বেড়েছে গড়ে প্রায় ত্রিশ ফুট। তবে গোড়ায় মাটির পরিবর্তে বালু থাকায় মাটির গভীরে যাওয়ার আগেই মরে যাচ্ছে মূল শিকড়। শাখা ও উপ মূল ছড়িয়ে পরছে আশপাশে। এতে ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙে পড়ছে গাছ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যাবিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন জানান, রোপণের আগে; প্রজাতি নির্বাচন, কোন স্থানে লাগানো হবে, সেটা নির্বাচন, এগুলোর ব্যবস্থাপনা জরুরি।
নগরবিদেরা বলছেন, মূলত সঠিক পরিচর্যার অভাবে এসব গাছ নাগরিক জীবনে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
নগর পরিকল্পানাবিদ ড. ইকবাল হাবিব বলেন, যেগুলো অতিরিক্ত বড় হয়েছে,সেগুলোকে পুলিং করা এবং কোন গাছ কতটুকু উচ্চতা, কতটুকু বেড়ে হবে; সে ব্যাপারে সুনির্ধারিত নীতিমালা থাকা উচিত। একই সঙ্গে বিপজ্জনক গাছগুলোকে কাঠামোগতভাবে সেগুলোকে সুদূঢ় করার চেষ্টা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সিটি করপরেশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ নগরবিদদের। নাহলে যেকোনো সময় প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনার শঙ্কা তাদের।