বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদনদীর পানি বাড়ছে। তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। ভারী বৃষ্টি চলতে থাকলে দুই এক দিনের মধ্যে নীলফামারী, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণার, নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের।
উজানের ঢল ও ভাটিতে ভারী বৃষ্টি-- দুইয়ে মিলে বাড়ছে তিস্তা্র পানি। তাই সোমবার রাত থেকেই তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি কপাট খুলে দেয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রামে তিস্তা ছাড়াও দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানিও বাড়ছে। নদী তীরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। এর মধ্যে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু ফসলি জমি। ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক কৃষক অপরিপক্ক ফসল ঘরে তুলছেন।
দেশের হাওর এলাকা সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনার সুরমা কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুতগতিতে বেড়ে বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বন্যাপূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী,রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী উদয় রায়হান বলেন, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় সতর্ক সীমা অতিক্রান্ত হতে পারে। যার ফলে কোথাও কোথাও নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। একইসাথে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলায় সুরমা, কুশিয়ারা ও সুমেশ্বরী নদী সতর্ক সীমায় প্রবাহীত হতে পারে। যার ফলে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে, আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, ১৯ জুন থেকে সিলেট ও রংপুর বিভাগে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ খন্দোকার হাফিজুর রহমান বলেন, আপাতত দুদিন দেখা যাচ্ছে সিলেট–ময়মনসিংহ অঞ্চলে বৃষ্টি বেশি হবে। রংপুর অঞ্চলেও বৃষ্টি হবে। তারমানে আগামী পাঁচ–সাতদিন আমরা যেটা দেখছি যে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির আধিক্যটা বেশি। এ অঞ্চলগুলোতে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশজুড়ে মৌসুমী বায়ু ছড়িয়ে পড়লেও, সাগর এখন বেশ শান্ত । তাই সারা দেশে টানা বৃষ্টি হচ্ছে না।