হাতিরঝিলে ছড়িয়েছে বিদেশি আগ্রাসী কচ্ছপ 

বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির রেড ইয়ার্ড স্লাইডার কচ্ছপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর হাতিরঝিলে। এখান থেকে বংশবিস্তার করে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জলাশয়ে। যা সারা দেশে বিস্তারের আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

অনেকে বাসা বাড়িতে অ্যাকুরিয়ামে রাখেন এই প্রাণী। উভচর প্রজাতির এ কচ্ছপ সর্বভূক হয়। গবেষকরা বলছেন, একটু বড় হলেই এটি সব ধরনের জলজপ্রাণ খেয়ে ফেলে। তাই এর বিস্তার রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সম্প্রতি দেখা যায়, রেড ইয়ার্ড স্লাইডার রোদ পোহাচ্ছে রাজধানীর হাতিরঝিলে। এ জলাশয়ে পাখি ও নানা ধরনের প্রাণী থাকলেও হঠাৎ চোখে পড়ছে কচ্ছপ।

অত্যন্ত জনপ্রিয় আধা-জলজ মিঠা পানির এ কচ্ছপের আদিনিবাস আমেরিকা মহাদেশ। শখের বশে অনেকেই অ্যাকুরিয়ামে পোষেণ এ প্রাণী। অবৈধ পথে দেশে আসছে রেড ইয়ার্ড স্লাইডার কচ্ছপ। 

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বলছে , দীর্ঘদিন এ্যাকুরিয়ামে রাখার পর অনেকে জলাশয়ে ছেড়ে দিচ্ছে এ কচ্ছপ।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরির্দশক আসীম কুমার মল্লিক বলেন, এটা অবৈধভাবে বিমানবন্দর, নৌপথ বা স্থলপথে আসতে পারে। অ্যাকুরিয়ামে পালার জন্য আনা হয়, অনেক সময় এ দেশ দিয়ে পাচারও হয়। 

গবেষকরা বলছেন, এরই মধ্যে জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে এ কচ্ছপ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সর্বভূক হয়ে ওঠে প্রাণীটি। যা পরিবেশের জন্য হুমকি।

বন্যপ্রাণী গবেষক আশিকুর রহমান সমী বলেন, ইতোমধ্যে জলাশয়ে এটি ব্যাপকভাবে মিশে গিয়েছে। এর কারণে আমাদের জলজ আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। 

অবৈধভাবে বিক্রি হলেও কোনও নজরদারি নেই। শিগগির ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশের জন্য চরম হুমকি হয়ে উঠতে পারে এ কচ্ছপ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফিরোজ জামান বলেন, এগুলো নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে বাংলাদেশে। এই প্রাণী আসার রুট বন্ধ করতে হবে, তা না হলে আমাদের স্থানীয় যে বাস্তুতন্ত্র আছে সেসব দখল করে ফেলবে। কোথায় কোথায় এসব প্রাণী আছে,সেসব চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলা যায়। 

শরীরে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া বহন করে রেড ইয়ার স্লাইডার কচ্ছপ। যা মানুষের শরীরেও ছড়ায়। স্থানীয় প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর এ কচ্ছপ প্রাকৃতিক জলাশয়ে না ছাড়ার পরামর্শ গবেষকদের।