মাছ ও লবণের ঘের রক্ষায় জলকপাট বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার ভয়াবহতা বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বন্যার প্রথম দুইদিন এই অবস্থা ছিল। তবে, পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্লুইচগেট খুলে দিয়ে বাঁধ কেটে দেওয়া হয়। ২ দিন দেরির কারণেই বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন লাখো মানুষ।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ আকার নিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। বন্যার অবনতির জন্য পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির সাথেই, মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাকেও দায়ী করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ও লবণের ঘের রক্ষার জন্য বাঁশখালীতে স্লুইসগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
জোয়ারের নোনা পানি আটকানো এবং ভাটার সময় বৃষ্টির পানি সাগরে বের করে দেওয়ার জন্য বাঁশখালীতে ৮৫টি স্লুইচগেট নির্মাণ হয়। কিন্তু বন্যা শুরু হলে কিছু ঘের মালিক সিন্ডিকেট করে স্লুইসগেট বন্ধ করে দেয়। পরে সেগুলো খুলতেও বাধা দেওয়া হয়।
বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য কয়েকজন মানুষ; যারা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল, মাছের ঘেরের নাম দিয়ে সরকারি স্লুইচগেট, যেগুলো এমনতিও দেখভাল করা হতো না, এগুলো আটকে মাছের ঘের করত। এগুলোর চেয়ে বাইরে বেরিবাঁধের ১০/২০টা স্পট আমরা কেটে দিয়েছি।
স্লুইচগেট দিয়ে পানি যথাযথভাবে বের হলে বন্যা পরিস্থিতির এতোটা অবনতি হতো না বলে মনে করছে চট্টগ্রামের পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ আহমেদ বলেন, আমরা আরও নতুন কিছু পয়েন্ট করে দেব। যাতে করে পরবর্তীতে
এমন বৃষ্টি হলে পানি আরও দ্রুত নেমে যায়। আমাদের বিদ্যমান স্লুইচগেটের সঙ্গে আরও নতুন কিছু সুবিধা লাগবে।
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও ঢলে পানিবন্দি চট্টগ্রামের ৭ উপজেলার ২ লাখ মানুষ। কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের।