দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও হতে পারে বৃষ্টি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, সুরমা, কুশিয়ারা, মারকুলি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সাঙ্গু, মাতামুহুরীর তীরবর্তী এলাকায় আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।
জুলাই মানেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি। এ মাসে গড়ে ৫০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়। এ বছরও ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে সারা দেশে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, টানা বৃষ্টি কমলেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয়। তাই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে খুলনা ও চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী এলাকায়।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ বজলুর রশীদ বলেন, ‘আগামী ৩ দিন দক্ষিণাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তিন দিন পর বৃষ্টি হয়তো কিছুটা কমে যাবে দক্ষিণাঞ্চলে এবং স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে। আপাতত অতিভারী বর্ষণ টানা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা, ছাতকে সুরমা, সুনামগঞ্জে মারকুলি ও নেত্রকোনায় সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে। এক সপ্তাহ বিরতির পর বান্দরবানে আবারও ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই আগামী কয়েক দিন সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর অববাহিকায় আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সাঙ্গু, মাতামুহুরী ইত্যাদি অববাহিকাভুক্ত বান্দরবান, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম জেলায় কিছু স্থানে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’
তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এখনো তলিয়ে আছে। জুলাইয়ের বাকি দিনগুলোতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।