দুটি রাডারের তথ্য নিয়ে চলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার কাজ। কক্সাবাজার ও খেপুপাড়ার রাডার অকার্যকর থাকায় গভীর সমুদ্রের তথ্য সরাসরি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গাণিতিক মডেল ও আড়াই শতাধিক সয়ংক্রিয় স্টেশনের প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে ডেটা সেন্টার থেকে শতভাগ সঠিক পুর্বাভাস পাওয়া যায় বলে দাবি আবাহাওয়া অধিদপ্তরের। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দ্রুত রাডার স্টেশন স্থাপনের তাগিদ আবহাওয়াবিদ ও গবেষকদের।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আগেও আবহাওয়া পূর্বাভাসের প্রচলন এই বাংলায়। বাতাসের গতিবেগ,পাখি, পিঁপড়া, ব্যাঙ, চাঁদ, সূর্য ও নক্ষত্রের গতিবিধি দেখে বৃষ্টি বা খরার পূর্বাভাস পেতো কৃষক। প্রাচীন এ পদ্ধতির সবচেয়ে সফল রূপকার খনার বচন।
সময় পালটেছে। বেড়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা। ঘূর্ণিঝড়,জলোচ্ছাস, বন্যা, ভূমিধ্বস, তাপ্রাবাহের আগাম বার্তা পাওয়া যায় স্যাটেলাইটে।
চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, সুইডেন, নরওয়েসহ ৮টি আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর। দুটি রাডার, ৬১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সাথে আন্তর্জাতিক তথ্যের গাণিতিক বিন্যাসে এখন পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড.আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আমরা এখন পাঁচ দিনের পূর্বাভাস ও আউটলুট দিয়ে থাকি। পাশাপাশি গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্বাভাসে কিছু ত্রুটি থাকবেই। আমাদের লক্ষ্য হলো কতটুকু ত্রুটি কমিয়ে গ্রহণযোগ্য করা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, জাপান, কোরিয়া ও চীনের স্যাটেলাইট ব্যবহার করি আমরা। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আমাদের পূর্বাভাসের মান অনেক ভালো।
তবে কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডার দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। শুধু গাজীপুর, রংপুরের রাডার চালু আছে। আবহাওয়া গবেষকরা বলছেন, গভীর সমুদ্রের আবহাওয়ার নির্ভুল পূর্বাভাস পেতে নতুন রাডার স্টেশন জরুরি।
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপচার্য ও আবহাওয়া গবেষক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, বেশি রাডার থাকলে সেটা আরও ভালো হয়। খুব বেশি দামও তো না। সমস্ত দেশের পূর্বাভাস মিলবে এমন রাডারও আছে এখন।
দেশের ২৭৫ টি স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহে গড়ে উঠেছে একটি ডেটা সেন্টার। স্যাটেলাইট তথ্য থেকে সেখানে জমা হচ্ছে সারা দেশের আবহাওয়ার খবর।



