মধুপুর বনাঞ্চলে রোপওয়ে নির্মাণ হলেও চলতে দেখা যায় না প্রাণীদের

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে দুর্ঘটনায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যু কমাতে রোপওয়ে নির্মাণ করেছে বনবিভাগ। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এই রোপওয়ে দিয়ে বন্যপ্রাণীর চলাচল দেখা যায়নি। স্থানীয়রা বলছে, বনে প্রাকৃতিক ফল গাছ না বাড়ালে রাস্তায় বন্যপ্রাণী আসা ঠেকানো যাবে না। 

মধুপুরে বনের মাঝ দিয়ে গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনায় আহত বা মারা যায় বন্যপ্রাণী। এসব প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলে রোপওয়ে নির্মাণ হলেও তা ব্যবহার হচ্ছে না।

মধুপুর বনের ৪৫ হাজার ৫৬৫ একরের মধ্যে শালবন রয়েছে মাত্র ৯ হাজার একর। বন উজাড়ের কারণে কমে গেছে প্রাণীদের খাদ্যগাছ। ফলে অনেক বন্যপ্রাণী বন ছেড়েছে, আবার কিছু প্রাণী খাবারের সন্ধানে চলে আসে রাস্তায়। প্রাণীরা রোপওয়েকে ফাঁদ মনে করে তা ব্যবহার করছে না, বলছেন স্থানীয়রা। 

পরিবেশবিদদরা বলছেন, প্রাণীদের খাদ্য সংকট সমাধান না করে শুধমাত্র  অবকাঠামো নির্মাণে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। 

টাঙ্গাইল পরিবেশবিদ সোমনাথ লাহিড়ী বলেন, ‘বনভূমিতে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবেই বানরগুলো মানুষের বসতির কাছাকাছি এবং সড়কে চলে আসে। প্রাণীদের খাদ্য সংকট দূর না করে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ ও টাকার অপচয় করা হয়েছে।’

বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ফলদ গাছ লাগানো হচ্ছে বলে জানায় বন বিভাগ।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আলম বলেন, ‘বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এই রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। আর বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ফলদ গাছ লাগানো হচ্ছে।’

অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের পরিবর্তে বনের পশুপাখিদের জন্য বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ নেবে বন বিভাগ, এমন প্রত্যাশাই স্থানীয়দের।