সুন্দরবন সংলগ্ন ১৮ কটেজ বন্ধের নির্দেশ, সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন

সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা ১৮টি কটেজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ছাড়পত্র না থাকায় এবং সংকটাপন্ন এলাকার ভেতরে অবস্থান হওয়ায় এই ব্যবস্থা। তবে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় ভারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারলে কটেজ বন্ধের এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। উপকূলের বাসিন্দাদের বনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পরিবেশসম্মত পর্যটনের সুপারিশ রয়েছে সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যানেও।

খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারীতে সুন্দরবন সংলগ্ন কটেজগুলোর একটিতে চলছে বন বিবির গান। যা এই এলাকার লোকসংস্কৃতি। পাশেই আরেকটি কটেজে পাঠশালায় বিনামূল্যে পড়ানো হয় শিশুদের। এসব কটেজ কেন্দ্র করে বিক্রি বেড়েছে বাড়িতে উৎপাদিত হাঁস-মুরগি, ডিম, দুধ এবং নিজেদের মাঠে চাষ করা ফসলের। 

স্থানীয় এক গায়ক বলেন, ‘রিসোর্টগুলা হওয়াতে আমরা সেখানে যেতে পারছি এবং আমাদের কিছু পয়সা উপার্জন হচ্ছে।’

শিশুদের বিনামূল্যে পড়ানো স্কুলের এক শিক্ষিকা বলেন, এখানে স্কুলটা করে দিছে রিসোর্টের ভাইয়েরা। এতে গ্রামেরও উন্নয়ন আমাদের বাচ্চাদেরও উন্নয়ন হচ্ছে।’

কটেজগুলোকে কেন্দ্র করে বেড়েছে স্থানীয় মানুষের জীবিকা। ছবি: ইনডিপেনডেন্টআরেক মুদি দোকানি বলেন, ‘এইখানে রিসোর্টটা হওয়াতে আমার এই মুদি দোকানটা চলছে। এটার উপর দিয়েই আমার সংসার চলছে।’

কটেজ মালিকদের দাবি, ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন, ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়েই চলছে প্রকৃতিবান্ধব এই পর্যটন ব্যবসা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র চেয়েও পাননি বলে জানান তারা। 

পেয়ালী কালচারাল ইকো রিসোর্টের চেয়ারম্যান আঁখি সিদ্দিকা বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার স্থানীয় মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এখানে জড়িত রয়েছে। তাই সরকারের কাছে দাবি, আমাদের এত বড় বিনিয়োগ, স্বপ্ন, শ্রম, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেবেন না।’

ঢাংমারী কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শাওন বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব করে এবং নিয়ম-কানুন মেনেই আমরা কাজগুলো করছি। আমরা চাই যারা এগুলো পরিবেশের চিঠি দিচ্ছেন তারা যেন এখানে এসে দেখে আমাদের এটি আরও সহজভাবে করার ব্যবস্থা করেন।’

কটেজ বন্ধের নির্দেশ অযৌক্তিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বন বিভাগকে সুপারিশ করেছি যে এই কটেজগুলো যদি এইখানে থাকে তাহলে তাদের কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সেগুলোর একটি তালিকা আমরা করে দিয়েছি।’

কটেজগুলো বন্ধ হয়ে গেলে কর্মহীন হয়ে পড়বে স্থানীয় লোকজন। ছবি: ইনডিপেনডেন্টতবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, ছাড়পত্র ছাড়া ইসিএ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাবে না। 

খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশের আইন অনুযায়ী চলে। এখানে আমাদের ইসির রুলস অনুযায়ী যেভাবে বলা আছে আমরা জাস্ট ওইভাবে চলব। এর বাইরে আমরা আইনগতভাবে যেতে পারি না। আইনের মধ্যে থেকে যদি কিছু সম্ভব হয় তাহলে হবে, আর যদি না হয়, তাহলে কোনোভাবে কিছু করার নেই।’

গেল কয়েক বছরে দাকোপের ঢাংমারী, মোংলার চিলা, বৈদ্যমারী, চাঁদপাই, সাতক্ষীরার মুন্সীগঞ্জে গড়ে উঠছে ২১টি কটেজ।