কেন আমরা স্ট্রেসজনিত দুঃস্বপ্ন দেখি?

দুঃস্বপ্ন আমাদের অবচেতন মনের ইঙ্গিত প্রদান করে। আমাদের ইতিবাচক আবেগের চেয়ে দুঃস্বপ্নে বেশি অনুভব হয় নেতিবাচক আবেগ। অতীতের বাস্তব ঘটনার সঙ্গে দুঃস্বপ্ন সম্পৃক্ত। দুঃস্বপ্নে আমাদের অবচেতন মনের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। অর্থাৎ বাস্তবে যে বিষয়গুলো চেপে রাখা হয়, আমরা দুঃস্বপ্নে সেটাই দেখি। 

আমরা কিছু মানসিক চাপের কারণেও দুঃস্বপ্ন দেখি। যেমন:
১. কাজের চাপে থাকা।
২. পরীক্ষার চাপে থাকা।
৩. অর্থজনিত দুশ্চিন্তায় থাকা।
৪. ঘুমের সময় এলোমেলো হওয়া।
৫. জীবনের চলমান ধারায় পরিবর্তন। যেমন: বিয়ে, তালাক,  মৃত্যু, বিবাহবিচ্ছেদ ইত্যাদি।
৬. অতীতের ঘটনা নিয়ে তীব্র মানসিক বা সামাজিক আঘাত।
৭.  মদ বা মাদকের অতিরিক্ত ব্যবহার।
৮. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় থাকা (জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার)।

ঘুম ও মানসিক চাপের একটা সম্পর্ক রয়েছে। অধিক মাত্রায় মানসিক চাপ নিদ্রাহীনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবার নিদ্রাহীনতার কারণেও এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। ফলে মানসিক চাপ বা নিদ্রাহীনতা দুঃস্বপ্ন তৈরি করে। 

মানসিকচাপজনিত দুঃস্বপ্ন কি সাধারণ বিষয়? 
আমরা সাধারণত দুঃস্বপ্ন  দেখি, যখন আমরা দুশ্চিন্তায় ভুগি অথবা কোন মানসিক চাপের মুখে দিন কাটাই। করোনাকালীন সময়ে দেখা গেছে, আমাদের দুঃস্বপ্নের মাত্রা অধিক ছিল। দুর্ভিক্ষ বা যেসব এলাকায় যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানকার মানুষেরাও দুঃস্বপ্ন বেশি দেখেন। তবে নারীরা স্ট্রেসজনিত দুঃস্বপ্নের শিকার বেশি হন। এ ছাড়া যাদের মানসিক চাহিদা পর্যাপ্ত পূরণ হয় না, তারাও দুঃস্বপ্ন দেখেন।

লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বাংলাদেশ