বাইরে প্রচণ্ড রোদে বেশি সময় থাকলে যেমন হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। তেমনি পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় এই দুই অবস্থার লক্ষণ একই রকম মনে হয়। ফলে শরীরে কী হচ্ছে, তা বুঝতে দেরি হয়। এতে ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অথচ পার্থক্যটা জানা থাকলে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
হিট স্ট্রোক কীভাবে বুঝবেন
হিট স্ট্রোক সাধারণত হঠাৎ করে ঘটে। প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ সময় থাকলে শরীর নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তখন শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। অনেক সময় এটি বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।
এ অবস্থায় মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি, শ্বাসকষ্ট এবং কখনো কখনো অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক সময় শরীর খুব গরম হয়ে যায় এবং খিঁচুনিও দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা বলেন, এটি জরুরি অবস্থা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঝুঁকি বাড়ে।
ডিহাইড্রেশন যেভাবে বুঝবেন
অন্যদিকে ডিহাইড্রেশন হয় শরীরে পানির ঘাটতির কারণে। গরমে ঘাম বেশি হয়, আর সেই ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। যদি তা পূরণ না হয়, শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে বাড়ে না। তবে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, তীব্র ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং দুর্বলতা দেখা দেয়। অনেক সময় হাঁটতেও কষ্ট হয়।
কীভাবে বুঝবেন পার্থক্য
হিট স্ট্রোক আর ডিহাইড্রেশনের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো শরীরের তাপমাত্রা। হিট স্ট্রোকে শরীর খুব গরম হয়ে যায় এবং অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। কিন্তু ডিহাইড্রেশনে মূল সমস্যা হয় পানির ঘাটতি, আর লক্ষণ তুলনামূলক ধীরে আসে।
ডিহাইড্রেশনে পানি বা ওআরএস খেলে অনেক সময় দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু হিট স্ট্রোকে শুধু পানি খেয়ে পরিস্থিতি সামলানো যায় না, তখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
কখন বেশি ঝুঁকি থাকে
গরমে পর্যাপ্ত পানি না খেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে কাজ করা বা ঘোরাঘুরি করলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। বিশেষ করে দুপুরের সময় এই ঝুঁকি বেশি।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন
গরমে কিছু সহজ অভ্যাস মানলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। যেমন- নিয়মিত পানি পান করা, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা, ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা, দীর্ঘ সময় রোদে না থাকা এবং মাঝে মাঝে ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া।
সমস্যা হলে কী করবেন
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় নিতে হবে। শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে পানি, ওআরএস বা লেবুর পানি খেলে ধীরে ধীরে স্বস্তি পাওয়া যায়।
গরমে শরীরের ছোট কোনো সমস্যাও অবহেলা করা ঠিক নয়। আর সময়মতো পার্থক্য বুঝতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।



