অ্যাথাজাগরফোবিয়া এক ধরনের অযৌক্তিক ভয়। যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন, তিনি অন্য কাউকে ভুলে যাবেন। অথবা তাকে অন্যরা ভুলে যাবে বা উপেক্ষা করবে অথবা তিনি উপেক্ষিত হবেন। এই ভুলে যাওয়ার ভয় কেউ কেউ এতো তীব্রভাবে ভোগেন যে তা ফোবিয়ার পর্যায়ে চলে যায়।
অ্যাথাজাগরফোবিয়ার কারণ
জেনেটিক কারণ: গবেষণা নির্ভর উপাত্ত বলছে নির্দিষ্ট কিছু ফোবিয়ার মত এটারও জেনেটিক প্রবণতার বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া গেছে। যদি পরিবারে অন্য কোনো সদস্যের ফোবিয়া বা দুশ্চিন্তাজনিত অসুস্থতা থাকে, তবে ব্যক্তি বিশেষের ভয় তৈরির মাত্রা অধিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট থাকে।
বাবা–মায়ের প্রভাব: সন্তানেরা মা-বাবাকে বা পরিবারে যিনি প্রধান তাঁকে যত্নআত্তি করেন। সন্তান তাঁদের আচার–আচরণকে গভীর মনোযোগের সঙ্গে নিরীক্ষণ করে এবং অবচেতনভাবেই অনুসরণ করে। এক কথায় বলা যায়, শৈশবে যদি পরিবারের কোনো সদস্যের কারণে সন্তান ভয় পেয়ে থাকে, তবে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে তিনি অ্যাথাজাগরফোবিয়াতে আক্রান্ত হবেন।
দুর্ঘটনা: একজন মানুষ যদি অতীতে ট্রমাটিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। যেমন: তাকে পরিত্যাগ করা হয়েছে অথবা তিনি প্রিয়জন হারিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি অ্যাথাজাগরফোবিয়াতে আক্রান্ত হতে পারেন।
প্রিয়জনের ডিমেনশিয়া: আপনার প্রিয়জনকে যদি ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমারস এ ভুগতে দেখেন এবং আপনি প্রধান যত্নকারী হন, তবে আপনার অ্যাথাজাগরফোবিয়াতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্নতাকে উদ্দীপ্ত করে। এটা ঠিক সাপের মতো আপনাকে অস্বস্তিতে পেঁচিয়ে ধরে এবং পরবর্তীতে অ্যাথাজাগরফোবিয়া তৈরি করে।
মনে রাখা দরকার
ভয়কে যত এড়িয়ে চলবেন, ভয় ততই কুৎসিত অজগরের মতো আপনাকে পেঁচিয়ে ধরবে। কাজেই ভয়কে মোকাবেলা করার জন্য অল্প অল্প করে ভয়ের সম্মুখীন হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। ঠিক এই জায়গাতেই সাইকিয়াট্রিস্ট বা চিকিৎসকদের সহযোগিতা ভালো কাজ করে।
এ ক্ষেত্রে আপনি চিকিৎসক, সাইকিয়াট্রিস্ট এর পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না। নিচের কারণগুলি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
১. যদি ছয় মাস এর অধিক সময় ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ভয় পেয়ে থাকেন।
২. অতিরিক্ত ভয়ের কারণে অনেক বেশি ভোগান্তির শিকার হন এবং যা আপনার কর্মক্ষমতা হ্রাস করছে।
৩. নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অথবা বস্তুর কারণে ভয় তৈরি হচ্ছে।
৪. বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে অত্যধিক ভয় পাচ্ছেন।
৫. যখনই নির্দিষ্ট কিছু মানুষ অথবা বস্তু দেখছেন তখনি ভয়ে অস্থির হয়ে যাচ্ছেন।
৬. ভয়ের অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক কারণ খুঁজে না পাওয়া।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার। ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ।