ঘরোয়া টোটকায় যেভাবে করবেন আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণার সমাধান

কখনও রোদ তো কখনও বৃষ্টি। এ রকম আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার জন্য সর্দি-কাশি তো হচ্ছেই, মাঝেমধ্যে দাঁতের ব্যথাও বেশ ভোগাচ্ছে। তার উপর আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণা হলে তো কোনোও কথাই নেই। শক্ত কিছু চিবিয়ে খেতে গেলেই কষ্ট চরমে উঠছে। কারও কারও ক্ষেত্রে দাঁত থেকে যন্ত্রণা মাথা, কান, গলা পর্যন্ত ছড়িয়ে যাচ্ছে। 
ঠান্ডা-গরমে মাড়ি ফুলে গিয়েও অনেকের দাঁতের সমস্যা বেড়ে যায়। ক্রমাগত ব্যথা হলে কিংবা কিছুতেই ব্যথা না কমলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে শরণাপন্ন হওয়ার আগে দাঁতের ব্যথা থেকে কিছুটা রেহাই পেতে ঘরোয়া কিছু টোটকা প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে।

ব্যথা পরিত্রাণে কিছু ঘরোয়া উপায়:

লবঙ্গ
দাঁতের ব্যথায় লবঙ্গ খুবই কার্যকর। মুখের মধ্যে ব্যথার এলাকায় একটি লবঙ্গ দাঁতে চেপে রাখতে পারেন। এই লবঙ্গের রসে সেখানকার সংক্রামক ব্যাকটেরিয়ার মৃত্যু তো হয়ই, একই সঙ্গে ব্যথাও কমবে। এ ছাড়া ব্যথার জায়গায় লবঙ্গের তেলও লাগিয়ে রাখতে পারেন। এতেও ব্যথা দূর হবে।

লবণ-গরম পানি
হালকা গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার কুলকুচি করা যেতে পারে। এতে দাঁতের গোড়ায় থাকা ব্যাকটেরিয়া কমবে। ফলে আক্কেল দাঁত যেখানে উঠছে, সেই জায়গায় কোনও ধরনের সংক্রমণ থাকলে, তা কমে যাবে। তা ছাড়া এতে মাড়ির ব্যথারও উপশম হয়।

হলুদ
দাঁতের ব্যথা কমাতেও হলুদের জুড়ি নেই। হলুদের প্রদাহনাশক উপাদানে এই সমস্যা অনেকটাই সামাল দেওয়া যায়। হলুদের গুঁড়ো, সামান্য পানি এবং কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল মিশিয়ে আক্রান্ত দাঁতের উপর মাখিয়ে রাখুন। মিনিটখানেক পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

রসুন
দাঁতের ব্যথা কমানোর মতো উপাদান রয়েছে রসুনে। রসুনের একটি কোয়া থেঁতো করে সরাসরি দাঁতের উপর মাখিয়ে রাখুন। এতে মাড়িতে অল্প-বিস্তর জ্বালা করতে পারে। তবে কিছুক্ষণ পর যন্ত্রণার তীব্রতা কমতে শুরু করবে।

ঠান্ডা-গরম সেঁক
সারা দিনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ঠান্ডা-গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে মুখের বাইরে থেকে। একটি তোয়ালেতে বরফ নিয়ে ঠান্ডা সেঁক দিলে ব্যথা কমবে। গরম সেঁক দিলে রক্ত চলাচল বাড়বে। ফলে যন্ত্রণার দ্রুত উপশম হবে।

পুদিনার রস
ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পুদিনা। পুদিনা পাতার রস খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

অ্যালোভেরা
আক্কেল দাঁত যেখানে উঠেছে সেখানে অ্যালোভেরা জেল লাগালে প্রশান্তি পাওয়া যাবে। এতে মাড়ির লাল ভাব কমে যাবে। 

লেখক: ডেন্টাল সার্জন, সিকদার ডেন্টাল কেয়ার, মিরপুর, ঢাকা

আরও পড়ুন: