হাম, ডেঙ্গু, কোভিডের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা দেখিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের মতো হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সক্ষমতা-সম্পন্ন সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত।
একই সঙ্গে, মহামারি ঠেকাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে চলা হাম আক্রান্ত সন্তানের সুস্থতার জন্য। কোলের শিশুর এমন করুণ অবস্থা যেকোনো বাবা মার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। সঠিক চিকিৎসা পেতে ভোগান্তির যেন শেষ নেই।
তবে কয়েকটি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সন্তুষ্ট রোগীর স্বজনরা।
এক শিশু রোগীর অভিভাবক বলেন, ১ জুলাই রাতে আমরা গাজীপুর থেকে রোগী নিয়ে এসেছি। এখানে ট্রিটমেন্ট মোটামুটি ভালো।
আরেক শিশুর অভিভাবক বলেন, চিকিৎসার দিক দিয়ে আমরা নার্স ও ডাক্তারদের কাছ থেকে যথেষ্ট সেবা পাচ্ছি।
রোগীদের সেবা দিতে পেরে সন্তুষ্ট ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের চিকিৎসকরাও।
ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. দেবব্রত রায় বলেন, আমাদের এখানে ৯ হাজার ৯শত ৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তারমধ্যে ৬৫ জন মারা গেছে। মৃত্যু হার ১ শতাংশেরও অনেক কম। আইসিইউ সার্ভিসসহ সবকিছুই আমরা সর্বোাচ্চভাবে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের এখানে হামের মৃত্যুহার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উচিত ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের মতো সেবাদানে সক্ষম হাসপাতালের সংখ্যা আরও বাড়ানো।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রত্যেকটা হাসপাতালেই হামের আইসোলেটেড চিকিৎসা করা দরকার। অনেকটা হয়েছে, তবে পুরোপুরি হয়নি। যেসব জেনারেল হাসপাতালে অন্যান্য বিষয়ের রোগীরাও আছে, সেখানে এটার ব্যবস্থা করা একটু কঠিন। তারপরও জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় সেই কঠিন কাজটাই কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করতে হবে।
কোভিড, হাম কিংবা ডেঙ্গুর মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের।



