কিডনিতে পাথর হলে যা করবেন

আমাদের আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের পাথর দেখি। তবে আমাদের শরীরের কিডনিতেও পাথর হতে পারে। সাধারণত ৩০-৪০ বৎসর বয়সে পাথর বেশী হয়। নারীদের তুলনায় পুরুষদের পাথর বেশি হয় (৩ থেকে ৪ গুণ)। কী কারণে পাথর হয়, সেগুলো এখনও অজানা। কিন্তু ধারণা করা হয় প্রস্রাবের বিভিন্ন ধরনের কণা (ক্যালসিয়াম অক্সালেট/কার্বনেট/ইউরিক অ্যাসিড) একে অন্যের সঙ্গে মিশে পাথর তৈরি হয়। পানি কম পান করলে পাথর তৈরির প্রবণতা বেড়ে যায়।

কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ

১. পানি কম পান করা।

২. বংশগতভাবে কিডনি পাথর।

৩. বার বার ইউটিআই (মূত্রনালির সংক্রমণ) হওয়া।

৪. হাইপার প্যারাথাইরয়েডিজমের সমস্যা হওয়া।

৫. ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে।

৬. অধিক সময় শয্যাশায়ী থাকলে।

রোগের লক্ষণ

এই ব্যথা পাথরের আকার, প্রকার, অবস্থানের ওপর ব্যথা নির্ভর করে। ব্যথা হঠাৎ শুরু হয় এবং এ ব্যথায় নিজেকে খুব অসহ্য মনে হয়। এ ছাড়া অন্যান্য লক্ষণগুলো হলো–

১. বমি বমি ভাব।

২. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার প্রবণতা।

৩. প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া করা।

৪. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া।

৫. হঠাৎ প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।

৬. প্রস্রাবের ইনফেকশন হওয়া।

করণীয়

১. পর্যাপ্ত পানি পান করা (১২ থেকে ১৪ গ্লাস)।

২. ঘুমের পূর্বে পানি পান করা।

৩. আহার নিয়ন্ত্রণ করা। বিশেষ করে পাপড়, আচার, অধিক লবণ জাতীয় খাবার বর্জন করা।

৪. লেবুর রস, ডাবের জল, মুসাম্বি, আনারসের রস পান করা।

৫. বীজহীন টমেটো, কলা ও বাদাম খাওয়া।

৬. মটর, মশুর, ফুলকপি,বেগুন, পালং শাক, মাশরুম, কুমড়ো, গরু ও খাসির মাংস কম খাওয়া।

৭. বের হয়ে যাওয়া পাথরের পরীক্ষা করানো এবং সেভাবে খাবার গ্রহণ করা।

৮. নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।

পরীক্ষা

১. প্রস্রাবের পরীক্ষা করা।

২. এক্সরে, প্রয়োজনে আইভিপি/সিটি আইভিপি করা।

৩. আলট্রাসনোগ্রাম।

৪. রক্তে কিডনি ফাংশন( ক্রিয়েটিনিন)।

চিকিৎসা

পাঁচ মি.মি বা এর থেকে ছোট পাথর যদি প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে দুভাবে চিকিৎসা করা যেতে পারে:

১. ওষুধের মাধ্যমে।

২. অপারেশন (পেট কেটে /পেট না কেটে)।

লেখক: কনসালট্যান্ট, ইউরোলজি, বিআরবি হসপিটালস লিমিটেড, ঢাকা