ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হচ্ছে হেপাটাইটিসে

কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক রোগী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)  গবেষণা বলছে, ৭০ ভাগ ডায়ালাইসিস রোগীই হেপাটাইটিস ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন। গাইডলাইন না মেনে ডায়ালাইসিস এবং অনিরাপদ রক্ত থেকেই বেশিরভাগ রোগী আক্রান্ত হচ্ছেন, বলছেন চিকিৎসকেরা। 

দেড় বছর ধরে ডায়ালাইসিস করছেন আব্দুর রাজ্জাক। ৬ মাস আগে তার হেপাটাইসিস সি শনাক্ত হয়। এরপর থেকেই নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি। কৃষক আব্দুল খালেকও বয়ে বেড়াচ্ছেন হেপাটাইসিস সি ভাইরাস। ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। এই হাসপাতালে ৬ মাসে হেপাটাইসিস ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৩০ জনের।  

নিয়ম থাকলেও রক্ত পরীক্ষা ছাড়াই ডায়ালাইসিস করায় অনেক হাসপাতাল। মানা হয় না গাইডলাইন। তথ্য গোপন করে অনেক রোগীও। ফলে এক রোগী থেকে সংক্রমিত হচ্ছেন আরেক রোগী। 

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রতন দাশ গুপ্ত বলেন,  ‘যারা স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল মানে না তারা ঝুঁকি তৈরি করে। আনকোয়ালিফাইড ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলোকে রেগুলেশনের মধ্যে আনা উচিত। ডায়ালাইসিস করতে হলে ট্রেইনড নার্স, নেফ্রোলজিস্ট থাকা দরকার, যা ইন্টারন্যাশনাল প্রটোকল ফলো করে।’ 

বেশিরভাগ ডায়ালাইসিস রোগীকে মাসে একবার রক্ত নিতে হয়। রাজধানীর তিন হাসপাতালে ১৫০ রোগীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়ালাইসিস নিতে গিয়ে বেশিরভাগ রোগীই হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। 

বিএসএমএমইউর নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এইচ হামিদ আহাম্মদ বলেন, ‘বিষয়টি উদ্বেগজনক। স্ক্রিনিং না করে ডায়ালাইসিস দিয়ে দিচ্ছি, অনেক কমার্শিয়াল ডায়ালাইসিস সেন্টারে এটা হয়। তাদেরকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। আরেকটা হচ্ছে, ব্লাড স্ক্রিনিং ঠিকভাবে করা।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিডনি বিকল রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এর সঙ্গে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েন রোগী।