বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব অপরিসীম

মায়ের দুধ শিশুর শ্রেষ্ঠতম খাবার। নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব অপরিসীম। মায়ের দুধের অ্যান্টিবডি শিশুর প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে। শিশুর দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করে। এ ছাড়া শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করে তোলে। বুকের দুধে শিশুর জন্য দরকারি সব পুষ্টি উপাদান সঠিক মাত্রায় থাকে। তাই ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট। এমনকি ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে আলাদা কোনো পানি পান করানোরও প্রয়োজন নেই।

প্রতি বছর বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হয়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। এতে বুকের দুধ খাওয়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এর উপকারিতা সম্পর্কে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় সবার কাছে।

কেন মা বুকের দুধ খাওয়াবেন

১. প্রসব-পরবর্তী রক্তপাতের আশঙ্কা কমায়।

২. প্রাকৃতিক জন্মনিরোধক হিসেবে কাজ করে।

৩. মায়ের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৪. মায়ের স্তন ও জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

৫. মা ও শিশুর মধ্যকার বন্ধন দৃঢ় করে।

৬. শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৭. শিশুকে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ অনেক রোগ থেকে রক্ষা করে।

৮. শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৯. শিশুমৃত্যুর হার কমায়।

১০. এটি অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয়ী এবং দুধ তৈরির আলাদা ঝামেলা নেই।

১১. শিশুর ক্যানসার, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি ভয়াবহ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

মায়ের দুধ পান করানোর প্রয়োজনীয়তা অবগত করাতে বিশ্ব নিরাপদ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ- এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালানো হয়। শুধু বুকের দুধ খাওয়ালে বছরে ৮ লাখের বেশি শিশু মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। মায়ের দুধ খাওয়ালে মা ও শিশু উভয়েই উপকৃত হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী জন্মের প্রথম ঘণ্টাতেই নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এরপর পরিপূরক খাদ্যের সাথে অন্তত ২ বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ চালিয়ে যেতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে, মায়ের দুধের উপকারিতা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। মায়ের দুধ শিশুর জন্য শুধু শ্রেষ্ঠতম পুষ্টিকর ও সঠিক খাবারই নয় বরং এটি যেকোনো রোগ প্রতিরোধক টিকার চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও কার্যকর। কৃত্রিম খাবারে শিশুদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং বুদ্ধির বিকাশও ব্যাহত হয়। শিশুমৃত্যুর হারও অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশে বুকের দুধ খাওয়া নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ও উৎসাহিত করে তুলতে হবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক (গাইনি), চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ