যে কোনো বয়সেই কানপাকা সমস্যা হয়ে থাকলেও শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। কান পঁচা থেকে কান এবং মস্তিষ্কের অনেক জটিলতা হতে পারে, যা কখনো মৃত্যুর ও কারণ হতে পারে। কান পঁচার জটিলতাসমূহ -
১. কানে কম শোনা।
২. বধির হওয়া।
৩. মস্তিষ্কে প্রদাহ ছড়িয়ে পড়া।
৪. কানে পর্দা নষ্ট হয়ে যাওয়া বা কানের পর্দা ছিদ্র হওয়া।
৫. সবসময় কান দিয়ে পুঁজ বা পানি আসা।
৬. শরীরের ভারসাম্য নস্ট হওয়া বা দাঁড়ানো তথা হাঁটাচলা করতে না পারা।
৭. কানে দুর্গন্ধ হওয়া।
করণীয়
কান পঁচা বা কান পাকার চিকিৎসায় ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। নতুবা ফলাফল আসবেনা। অথবা সুস্থ হতে লম্বা সময় প্রয়োজন পড়তে পারে। তাই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে:
১. কান চুলকানো যাবে না।
২. ডুব দিয়ে গোসল করা যাবে না।
৩. ঠান্ডা খাবার খাওয়া যাবে না।
৪. বারবার কানে কোনো কিছু দিয়ে খোঁচাখুঁচি করা যাবে না।
৫. গোসলের সময় কানের মধ্যে তুলা অথবা ইয়ার প্লাগ দিয়ে গোসল করতে হবে।
৬. ঠান্ডা সর্দি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
৭. টক বা ভিটামিন জাতীয় খাবার একটু বেশি খেতে হবে।
৮. চুইংগাম খাওয়ার উপযুক্ত হলে দৈনিক এক দুইটা চুইংগাম খেতে পারে।
কান পাকার প্রতিরোধ
আমরা সব সময় বলি চিকিৎসা বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। সেজন্য শিশুদের কানের যত্ন নিতে হবে এবং যে সব বিষয়ের জন্য কারণে বাচ্চাদের কান পাকা বা কান পচা হয়ে থাকে সেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
যেমন—
১. অযথা বাচ্চাদের কান চুলকাবেন না।
২. শিশুদের অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখবেন।
৩. শিশুদের গোসলের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন কানের মধ্যে পানি না ঢুকে।
৪. শিশুদের অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলে অথবা টনসিল এডিনয়েডের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। কেননা লম্বা সময় এডিনেডের সমস্যা থেকে কানের ইনফেকশন বা কান দিয়ে পুঁজ পড়ার সমস্যা হতে পারে।
৫. কটনের এর ব্যবহার বন্ধ করুন।
৬. মাঝেমধ্যে শিশুদের কানের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৭. শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাথার দিকটা সামান্য উঁচু করে ধরে রাখবেন।
কান পঁচার চিকিৎসা
কানের চিকিৎসা কোনোভাবেই লোক মুখে শুনে বা দোকানপাট থেকে নিবেন না। কেননা কান একবার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিক হওয়া বা আগের জায়গায় যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কান পাকা বা পঁচার চিকিৎসায় অবশ্যই নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশুর কান পচার চিকিৎসা মেডিসিনের পাশাপাশি চিকিৎসকের উপদেশ মেনে চলতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিশেষ করে নাক,কান ও গলা রোগ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করাই ভালো।
লেখক: নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন


শিশুর কানপাকা রোগ হলে কী করবেন?
শিশু দেরিতে কথা বললে কখন স্পিচ-থেরাপিস্টের কাছে যাবেন
শিশুর জ্বর হলে কী করবেন?
