মাড়ি থেকে রক্ত ঝরে যেসব কারণে

দাঁতে ব্যথা মানেই শুধু দাঁতের সমস্যা—এটি ভ্রান্ত ধারণা। বিভিন্ন কারণে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। মাড়িতে সংক্রমণ/ ইনফেকশন হয়ে মাড়ি সংলগ্ন দাঁতে ব্যথা অথবা প্রি-ক্যান্সারাস লেশনের জন্যে ব্যথা হতে পারে। এছাড়া রেফার্ড পেইনের জন্য অর্থাৎ এক দাঁতের সমস্যার জন্যে অন্য দাঁতে ব্যথা অনুভব হতে পার। তাই দাঁতে ব্যথা উঠলে দাঁতের সমস্যাজনিত ব্যথা হয়েছে ভেবে একটি ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমিয়ে অবহেলা করা ঠিক হবে না। একজন দন্ত চিকিৎসকের নির্ভুল ও সঠিক চিকিৎসাই দিতে পারে আপনার দাঁতের ভবিষ্যৎ সমস্যাজনিত ব্যথা থেকে মুক্তি!

মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি রোগ। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে এ রোগে ভোগেন। শুরুতেই ডেন্টিস্টের কাছে গেলে নিরাময় ও সহজে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

রক্ত পড়ার কারণ

১. কয়েকটা কারণে মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে। তার মধ্যে প্রথম কারণ হচ্ছে, ক্যালকুলাস। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করলে দাঁতের ওপর জমে থাকা খাদ্যকণাগুলোর সাদা প্রলেপ পড়ে, যাকে আমরা ডেন্টাল প্লাক বলি। ২৪ ঘণ্টা পর এ ডেন্টাল প্লাক শক্ত হয়ে ক্যালকুলাস হয়।

২. ক্যালকুলাস দাঁত ও মাড়ির মাঝখানে অবস্থান করে এবং প্রতিনিয়ত নরম মাড়ির সঙ্গে ক্যালকুলাসের ঘর্ষণের কারণে খুব সহজেই মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। মাড়ির ফোলা এবং প্রদাহের কারণও এ ক্যালকুলাস। এটিকে বলা হয় জিনজিভাইটিস।

৩. এছাড়া জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করা, ঠিকমতো ফ্লসিং না করা, রক্তের নানা রোগ যেমন হিমোফিলিয়া থেকে লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যানসার, লিভারের সমস্যা, রক্ত জমাট বাঁধার উপাদানের তারতম্য, ডেঙ্গু, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, এইডস প্রভৃতি রোগ, রক্ত পাতলাকারী ওষুধ, গর্ভাবস্থায় বা বিশেষ সময়ে হরমোনের তারতম্য এবং বিশেষ কিছু ভিটামিন যেমন ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘কে’র ঘাটতির কারণেও রক্তপাত হতে পারে।

করণীয়

রক্ত পড়লে অবশ্যই একজন ডেন্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শে দাঁতের স্কেলিং করাতে হবে। স্কেলিংয়ের পর সাধারণত আর রক্তপাত হবে না। ছয় মাস পর পর স্কেলিং করাতে হবে। স্কেলিং করলে দাঁতের মাড়ির ক্ষয় হয়, এমন ধারণা সঠিক নয়।

১. প্রতিদিন সঠিক নিয়মে সকালে নাস্তার পর ও রাতে ঘুমানোর আগে ভালো মানের পেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে দুবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে। দীর্ঘদিন এক টুথব্রাশ ব্যবহার না করা ভালো।

২. ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহারের মাধ্যমে দুই দাঁতের মাঝখানে লেগে থাকা খাদ্যকণা দূর করতে হবে।

৩. দাঁতের সুস্থতায় সুষম খাবারের বিষয়েও মনোযোগী হতে হবে। আঁশজাতীয় খাবার ও সবুজ শাকসবজি দাঁতের জন্য ভালো। নিয়মিত ক্যালসিয়াম, ভিটামি ‘সি’ ও ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

৪. আমলকী, কমলালেবু, বাতাবিলেবু, লেবু, আমড়া ইত্যাদি ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। দুই বেলা দাঁত পরিষ্কারের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে মাউথওয়াশ দিয়ে কুলি করলে মুখে দুর্গন্ধ হবে না।

লেখক: ডেন্টাল সার্জন, সিকদার ডেন্টাল কেয়ার, মিরপুর