শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম হিসেবে হাঁটার কথাই আসে। হাঁটলে শরীর ভালো থাকে, এ ব্যাপারে কোনও দ্বিমত নেই। তবে সবার সক্ষমতা এক রকম নয়।
কেউ প্রতিদিন জোরকদমে ২ কিলোমিটার হাঁটতে পারেন। আবার, কেউ হাঁটার জন্য ১৫ মিনিট সময়ও বের করতে পারেন না।
চিকিৎসকেরা বলেন, অন্তত দুই কিলোমিটার ‘ব্রিস্ক ওয়াক’ বা জোরে হাঁটা গেলে সার্বিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব।
ভারতের সিকে বিড়লা হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক সুরেন্দ্র পাল সিং বলেন, ‘প্রত্যেকদিন যে কোনো সময় দু’ কিলোমিটার ব্রিস্ক ওয়াক বা জোরে হাঁটা গেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভালো থাকবে হার্ট এবং ফুসফুসের স্বাস্থ্য।’
আসুন জেনে নেওয়া যাক জোরে হাঁটার উপকারিতাগুলো।
হৃদ্ক্রিয়া সচল রাখে
দ্রুত হাঁটা আপনার হৃদ্যন্ত্র এবং ফুসফুসকে শক্তিশালী রাখে, কার্যক্ষমতা বাড়ায়। এতে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা বাড়বে।
রক্তচাপ
প্রতিদিন দ্রুত হাঁটার অভ্যাস থাকলে রক্তচাপ কমতে পারে, এটি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমাবে। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে।
ডায়াবেটিস
দ্রুত হাঁটা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস।
ওজন
হাঁটলে ক্যালরি ক্ষয় হয়। ফলে যারা ওজন কমাতে চান বা ওজনটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য জোরে হাঁটা দারুণ উপকারী।
সপ্তাহে পাঁচবার অন্তত আধা ঘণ্টা করে দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সুরেন্দ্র পাল সিং। তবে দ্রুত হাঁটার কিছু অসুবিধাও রয়েছে। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জোরে হাঁটলে অনেক সময় শ্বাসপ্রশ্বাস বেড়ে যায়। এতে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা যায় না। সঠিক জুতা না পরলে পায়ের পেশিতে টানও পড়তে পারে।
জোরে হাঁটার পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণও একইভাবে জরুরি। নইলে অতিরিক্ত শক্তি ক্ষয় হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস