আগস্টে আবারও ভয়াবহ রুপে ফিরেছে ডেঙ্গু। এক মাসেই ভেঙে গেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় বছরের সব রেকর্ড। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৩৫ হাজারের বেশি, যার মধ্যে শুধু আগস্টেই আক্রান্ত সাড়ে ২০ হাজার। এ মাসে মৃত্যুও হয়েছে মোট প্রাণহানির প্রায় অর্ধেক। এ অবস্থায় ডেঙ্গু চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
সব বিভাগেই সমানভাবে ছড়িয়েছে মশাবাহিত সংক্রামক রোগ, ডেঙ্গু। জানুয়ারি থেকে মোট ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ঢাকা বিভাগে। এরপরই বরিশালে ৫ হাজার ৮৩৮ জন। এ বছর মোট ৯৭ মৃত্যুর মধ্যে আগস্টেই মারা গেছে ৪৩ জন। সবচেয়ে বেশি ৪৯ জনের মৃত্যু ঢাকা বিভাগে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নয়, মশার বিস্তার ঠেকালেই কমবে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বয়স্ক, শিশু এবং অন্য রোগে আক্রান্তদের বিশেষ যত্নের পরামর্শ তাদের।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.আসাদুজ্জামান বলেন, অন্যান্য অসুখসহ যদি ডেঙ্গু হয়; তখন রোগীগুলোর কী হবে তা কিন্তু বলা যায় না। একটা অংশ মারা যায়। কাজেই প্রতিরোধ যদি করা যায়; রোগীর সংখ্যা যদি কমানো যায়, তাহলে মৃত্যুও কমানো যাবে।
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা বলেন, ডাবের খোসা, টায়ার বা এসব কিছুতে পানি জমে; এগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।
ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরণ রয়েছে। একটি ধরণে আক্রান্তদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। তবে, দ্বিতীয়বার ভিন্ন ধরনে আক্রান্ত হলে জটিলতা বাড়তে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.আসাদুজ্জামান বলেন, রক্ত পড়া, পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া কিংবা কলেরার মতো লক্ষণ থাকলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা বলেন, প্রথম বারের চেয়ে দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে কিন্তু জটিলতাটা একটু বেশি হয়। অপেক্ষা না করে দ্রুত রোগীতে হাসপাতালে নিতে হবে।
আগস্টে শেষ ৩ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৫৬ জন। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৮৫ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নেবে।



