ওভারিয়ান সিস্ট কী? ওভারিয়ান সিস্ট কী কারণে হয়?

নারীর প্রজনন ব্যবস্থা বা রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে একজোড়া ওভারি বা ডিম্বাশয়। ওভারিগুলো নারীর সেক্স হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন তৈরি করে এবং সন্তান উৎপাদনের জন্য ডিম নিঃসৃত করে। এই ওভারি বা ডিম্বাশয়ের মধ্যে তরল-পূর্ণ থলির মতো কাঠামো তৈরি হলে এদেরকে সিস্ট বলে। সাধারণত প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে ওভারিয়ান সিস্ট বেশি হয়ে থাকে। এটি নারীদের একটি সাধারণ দৈহিক সমস্যা।

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ

অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াও ওভারিয়ান সিস্ট থাকতে পারে। তবে সিস্টের কারণে যেসব লক্ষণ থাকতে পারে তা হলো-

১. পেট ফুলে যাওয়া বা ফোলাভাব হওয়া

২. তলপেটে ব্যথা

৩. শ্রোণীচক্র বা পেলভিসে তীব্র ব্যথা

৪. হজমে ব্যাঘাত ঘটা

৫. ওজন বেড়ে যাওয়া

৬. অনিয়মিত মাসিক

৭. মাসিকের সময় প্রচণ্ড ব্যথা

৮. যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত

৯. ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া

১০. পায়খানা বা প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়া

১১. সিস্ট প্যাঁচ খেয়ে বা টর্শন হয়ে ফেটে যেতে পারে

১২. সিস্ট ফেটে গেলে তীব্র ব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটতে পারে।

ওভারিয়ান সিস্টের কারণ

১. হরমোনজনিত সমস্যা

২. এন্ডোমেট্রিওসিস

৩. গর্ভাবস্থা

৪. পেলভিক ইনফেকশন

ওভারির সিস্টের জটিলতাসমূহ

বেশিরভাগ সিস্টই বিনাইন বা কম ক্ষতিকর। তবে কিছু ক্ষেত্রে তারা জটিলতা ধারণ করতে পারে। যেমন-

১. ডিম্বাশয়ের সিস্ট ফেটে যেতে পারে

২. ডিম্বাশয়ের সিস্ট বড় হলে এটি প্যাঁচ খেয়ে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং টিস্যুর পচন হয়ে ক্ষতি করতে পারে। তখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

৩. সিস্ট ফেটে ভিতরের তরল পদার্থ পেটের ভিতর ছড়িয়ে পড়ে পেটের আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে যা তীব্র ব্যথা ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

৪. ডিম্বাশয়ের সিস্ট ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব করতে পারে।

৫. কিছু কিছু সিস্ট থেকে ক্যান্সার হতে পারে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ