স্বাদের পরিবর্তন কী কী কারণে ঘটে?

মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মধ্যে জিহ্বা একটি অত্যাবশ্যক ইন্দ্রিয়, যা আমাদের খাদ্য এবং পানীয়ের স্বাদ গ্রহণের উপযোগিতা বাড়ায়। এটি একটি জটিল শারীরিক প্রক্রিয়া, যা টেস্ট বাট বা স্বাদের কুঁড়ি, স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের মিথস্ক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। এই অংশগুলো কোনো দুর্ঘটনা অথবা কোনো শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বাদের পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে স্বাদ পরিবর্তনের সঠিক কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব। উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই মূল্যবান অনুভূতির পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

স্বাদের এই অনুভূতি হারানোকে এজিয়াসিয়া বলা হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং সামগ্রিক সুস্থতার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বাদ হারানোর অনেকগুলো কারণ হতে পারে। যেমন:

১. শ্বাসযন্ত্রে ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ করলে খাবারের স্বাদ পরিবর্তন হয়। যেমন– স্ট্রেপ গলা, সাধারণ ঠান্ডা, ফ্লু, সাইনোসাইটিস, কোভিড, নাক বন্ধ এবং প্রদাহের কারণে সাময়িকভাবে স্বাদ নষ্ট করতে পারে।

২. দাঁতের সমস্যা, মাড়ির রোগ, নির্দিষ্ট দাঁতের কিছু চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে স্বাদের কুঁড়িকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে স্বাদ উপলব্ধি নষ্ট করতে পারে। এছাড়া বেশ কিছু মুখের রোগ মুখের স্বাদকে পরিবর্তন না নষ্ট করে দেয়। যেমন: ওরাল থ্রাশ, শুষ্ক মুখ (জেরোস্টোমিয়া), বার্নিং মাউথ সিনড্রোম, গ্লসাইটিস, স্জোগ্রেন সিনড্রোমও ইত্যাদি

৩. রোগ নিরাময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধসহ বেশ কিছু ওষুধের রাসায়নিক মিশ্রণ স্বাদ রিসেপ্টরগুলোর কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করে, যার ফলে অস্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাদ নষ্ট হয়ে থাকে।

৪. রেডিয়েশন থেরাপি বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের জন্য স্বাদের কুঁড়ি এবং লালা গ্রন্থির ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে স্বাদের ব্যাঘাত ঘটে।

৫. মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট বাট বা স্বাদের কুঁড়িগুলির সংখ্যা হ্রাস পায় এবং পুনরুত্থান প্রক্রিয়াটি ধীর হয়ে যায়, যার ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাদের উপলব্ধি ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে।

৬. ডায়াবেটিস বিশেষ করে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, পারকিনসন্স ডিজিজ বা আলঝেইমার, মাল্টিপল এক্সক্লোরোসিস রোগের মতো অবস্থার ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাদের ব্যাঘাত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আবার কোনো দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক বা মাথার আঘাতের ফলে স্বাদ সংকেত প্রেরণের জন্য দায়ী স্নায়ুগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বাদের অস্থায়ী বা স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

৭. মানবদেহের স্বাদের কুঁড়ির বিকাশ এবং কার্যকারিতার জন্য জিংক বা দস্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জিংকের ঘাটতি স্বাদের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

৮. ধূমপান, মদ্যপান, পান-জর্দা-চুন, ইত্যাদি দাঁত-মাড়ি-জিব্বা সহ মুখের স্বাস্থ্য নষ্ট করে পাশাপাশি টেস্ট বাডকেও নষ্ট করে দেয়। ফলে স্বাদ উপলব্ধি নষ্ট হয়। আবার অতিরিক্ত গরম খাবার যেমন সুপ, চা, কফি ইত্যাদিও সাময়িকভাবে স্বাদের কুঁড়িগুলিকে নষ্ট করে দেয়।

লেখক: নিউট্রিশন অফিসার, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি