মানুষের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অসুখবিসুখ হাতছানি দেয়। এ সময় চোখের সমস্যাও বাড়তে পারে। ছানি এমন এক রোগ, যা বয়স্ক মানুষের বেশি হয়ে থাকে। ছানি রোগে চোখের স্বাভাবিক স্ফটিক লেন্স ধীরে ধীরে অস্বচ্ছ হয়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স পুরু, ঘোলা এবং অসংকোচনশীল হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় লেন্সের ভেতরকার প্রোটিন এবং ফাইবারের একত্রে ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা। এতে প্রোটিন এবং ফাইবার ভেঙে গিয়ে মেঘের মত জমা হয়ে তৈরি করে লেন্স বা ছানি।
সাধারণত ছানি আকারে যত বড় হয়, দৃষ্টিসীমা তত অস্পষ্ট হয়। বয়স্ক মানুষের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে দেখা যায় জন্মগত ছানি। ছানি বাইরের থেকে লেন্সে আসা আলোক রশ্মিকে প্রতিহত করে চারপাশে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি লেন্সের পেছনের স্তর রেটিনাতে ফোকাস করতে বাধা দেয়। ফলে চোখের সামনে তৈরি হয় অস্পষ্ট ইমেজ।
চোখে ছানি রোগ অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া দৃষ্টিশক্তি লোপ পেতে পারে। আবার এক বস্তুকে একাধিকও দেখা যেতে পারে। এ রোগে রাতেও দেখতে পাওয়া যেতে না পারে। আবার আলোর সংস্পর্শে চোখ থেকে পানি ঝরতে পারে এবং চোখ বন্ধ হয়ে আসতে পারে।
ছানি রোগে মাথা ও চোখ ব্যথার পাশাপাশি চোখে ঝাপসা ভাব, দৃষ্টিসীমায় ক্রমাগত আলোর ঝলকানি কিংবা একই বস্তুর একাধিক অস্পষ্ট ইমেজ তৈরি হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, সার্জারির মাধ্যমে একজন ছানি রোগীর হারানো দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ছানি রোগের সার্জারি দুইভাবে করা হয়। একটি হলো সেলাইবিহীন ছানি অপারেশন। আরেকটি হলো সেলাইযুক্ত ছানি অপারেশন।
করণীয়
১. অন্তত বয়স ৪০ বছরের কাছাকাছি হলে অবশ্যই চোখ পরীক্ষা করা উচিত।
২. সানগ্লাস ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
৩. প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মৌসুমি ফল এবং সবুজ শাক সবজি রাখতে হবে।
৪. ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় প্রতিরক্ষামূলক আই শিল্ড পরিধান করতে হবে।
৫. ডায়বেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।