মাঝে মাঝে বুক ধড়ফড় করে আবার চিনচিনে ব্যথাও হয়, বড় কোনো বিপদ কি?

অনেকেই বুক ধড়ফড় বা প্যালপিটেশন সমস্যায় ভুগে থাকেন। এটি এমন একটি অনুভূতি, যেখানে মনে হয় হৃৎস্পন্দন দ্রুত, অনিয়মিত বা অতিরিক্ত জোরে চলছে। এটি সাধারণত দুশ্চিন্তা, ব্যায়াম, ওষুধের প্রভাব কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে হতে পারে। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি ক্ষতিকর নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর হৃদরোগের লক্ষণও হতে পারে।

বিভিন্ন কারণে বুক ধড়ফড় করতে পারে। বুক ধড়ফড়ের স্বাভাবিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম।

২. মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা আতঙ্ক।

৩. অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণ।

৪. গর্ভাবস্থা বা হরমোন পরিবর্তন।

. পানিশূন্যতা, জ্বর বা রক্তশূন্যতা।

৬. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন: অ্যাজমার ওষুধ, থাইরয়েডের ওষুধ, ওজন কমানোর ওষুধ)।

৭. নেশাদ্রব্য সেবন (কোকেন, অ্যামফিটামিন, ইয়াবা ইত্যাদি)।

৮. রক্তচাপ কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া (সুগার কমে যাওয়া)।

যদি বুক ধড়ফড় মাঝে মাঝে হয় এবং কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়, তবে সাধারণত চিন্তার কিছু নেই। ছবি: ফ্রিপিকবুক ধড়ফড় কোনো গুরুতর হৃদরোগের লক্ষণও হতে পারে। যেমন:

১. অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন (অ্যারিদমিয়া)।

২. হার্ট অ্যাটাক।

৩. হার্টের রক্তনালিতে ব্লকেজ।

৪. হার্ট ফেইলিউর।

৫. হার্টের ভাল্বের সমস্যা।

৬. হার্টের ভিতর রক্ত জমাট বাঁধা।

৭. হৃদ্‌যন্ত্রের মাংসপেশির দুর্বলতা।

 

বুক ধড়ফড়ের লক্ষণসমূহ হলো:

১. হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হওয়া।

২. বুকের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ অনুভব করা।

৩. মনে হওয়া হৃৎস্পন্দন মিস করছে।

৪. বুকের পাশাপাশি গলাতেও স্পন্দন অনুভূত হওয়া।

৫. বিশ্রামের সময়ও বুক ধড়ফড় করা।

 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

যদি বুক ধড়ফড় মাঝে মাঝে হয় এবং কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়, তবে সাধারণত চিন্তার কিছু নেই। তবে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন:

১. যদি হৃদযন্ত্রজনিত সমস্যার পূর্ব ইতিহাস থাকে।

২. বুক ধড়ফড়ের মাত্রা যদি বৃদ্ধি পায়।

৩. বুক ধড়ফড়ের পাশাপাশি বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি হয়।

৪. চরম মাথা ঘোরা অনুভূত হয়।

৫. হৃৎস্পন্দন অনিয়মিতভাবে দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকে।

বুক ধড়ফড় কমাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন:

১. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা রিলাক্সেশন থেরাপি গ্রহণ করুন।

২. অতিরিক্ত চা, কফি, অ্যালকোহল ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন।

৪. শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

৫. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকুন

৬. প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন।

বুক ধড়ফড় করা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক, তবে এটি যদি নিয়মিত বা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হৃদরোগজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন এবং যেকোনো সমস্যার ক্ষেত্রে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

লেখক: মিনিম্যালী ইনভেসিভ কার্ডিয়াক অ্যান্ড এওর্টিক সার্জন, জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল