দেশে চিকিৎসা নেওয়া ক্যানসার রোগীরা যেন মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে আছেন। কোনো সরকারি হাসপাতালেই চালু নেই রেডিওথেরাপির আধুনিক যন্ত্র লিনাক। শুধু একটি হাসপাতালে চালু আছে পুরোনো পদ্ধতির কোবাল্ট মেশিন। বেসরকারিভাবে এ চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় রেডিওথেরাপি সেবার বাইরেই থাকছেন রোগীদের একটা বড় অংশ।
দেশে ক্যানসার আক্রান্ত মানুষ ১০ লাখের বেশি। এ রোগে খুব জরুরি চিকিৎসা রেডিওথেরাপি। আক্রান্তদের ৭৫ ভাগেরই এ সেবা দরকার হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, মাত্র ১৩ ভাগ রোগী দেশে এ সেবা পান। বড় কারণ রেডিওথেরাপি যন্ত্রের ভয়াবহ সংকট।
ঢাকা মেডিকেলের রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আলিয়া শাহনাজ বলেন, ঢাকা মেডিকেলে ১৪ বছর ধরে নষ্ট আধুনিক পদ্ধতির লিনাক মেশিন। পুরোনো পদ্ধতির কোবাল্ট মেশিন দুটিও কাজ করে না। জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালেও রেডিওথেরাপি সেবা পুরোপুরি বন্ধ।
এ দুই হাসপাতাল ছাড়া আরও আটটি হাসপাতালে রেডিওথেরাপির যন্ত্র থাকলেও কোনোটিই সচল নেই। শুধু চট্টগ্রাম মেডিকেলে চালু আছে একটি কোবাল্ট মেশিন।
অধ্যাপক আলিয়া শাহনাজ আরও বলেন, ‘এমন অনেক রোগী আছেন যাদের চিকিৎসাই হলো রেডিওথেরাপি। যখন তিনি থেরাপি পেলেন না তার যদি দ্বিতীয় স্টেজে ক্যানসার থাকে সেটা হয়তো তৃতীয় অথবা চতুর্থ স্টেজে চলে যায়। এসব মেশিনের বিষয়ে অনেক রকমের চিঠি আদান-প্রদান হলেও কাজে কোনো অগ্রগতি নেই। একজন চিকিৎসক হিসেবে এ বিষয়গুলো মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্যানসার রোগীদের সঠিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু মেশিন কিনলেই হবে না। মেশিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দরকার দক্ষ জনবল।’
চিকিৎসকেরা জানান, বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৩টিতে রেডিওথেরাপি আছে। ব্যয়বহুল হলেও এসব হাসপাতালেও সিরিয়াল পেতে লাগে কয়েক দিন। এ জন্য অনেক রোগীকেই নেওয়া হয় বিদেশে।