যে বিরল রোগে আক্রান্তরা দিনে ২০ ঘণ্টা পর্যন্তও ঘুমান

২৪ ঘণ্টার একটি দিন–রাতে প্রায় ২০ ঘণ্টাই ঘুমিয়ে কাটান, এমন কেউ কি আছেন? হ্যাঁ আছেন। স্নায়ুর এক ধরনের বিরল রোগে আক্রান্তদের পক্ষে এত বেশি ঘুমানোটা খুবই স্বাভাবিক। ক্লেইন লেভিন সিনড্রোম নামে পরিচিত রোগে ঘটতে এ ধরনের ঘটনা।

‘স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম’ নামেও পরিচিত এই রোগ। এ রোগটি অতিরিক্ত ঘুমের পুনরাবৃত্তি ঘটায়, প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করতে বাধ্য করে আক্রান্তদের। এর সঙ্গে রোগীদের অত্যাধিক ক্ষুধা লাগতে পারে, পরিবর্তন হতে পারে আচরণেরও। এক প্রতিবেদেন এসব তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ডা. সেরমেড মেজহের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি এই রোগের সম্পর্কে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘যাদের মধ্যে ক্লেইন লেভিন সিনড্রোম রয়েছে তারা দিনে ২০ ঘণ্টাও ঘুমোতে পারে। এমনকি টানা এক সপ্তাহও।’

এখানেই শেষ নয়। আরও একটা উদাহরণ চমকে দেওয়ার মতোই। তিনি বলেন, ‘এমন তথ্যও রয়েছে, যেখানে কোনো ব্য়ক্তি টানা ৩২ দিনও ঘুমোতে পারেন।’

এই রোগের উপসর্গ কী? হাইপারসোমনিয়া। এর পাশাপাশি উপসর্গ দেখা যেতে পারে, মনসংযোগে ব্য়াঘাত, দ্বিধা, সারাক্ষণ একটা ঘোরের মধ্যে থাকা। আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণগত পরিবর্তনও দেখা যায়। প্রচণ্ড মুডসুইং, সব কিছুতেই অস্বস্তি। অতিরিক্ত খুধা কিংবা যৌনকাঙ্খা। বাচ্চাদের মতো ধৈর্যের অভাব, বাস্তব থেকে দূরে সরে থাকার ইচ্ছা।

গুড ডিড ক্লিনিকের পরিচালক এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট ডা. চন্দ্রিল চুঘ বলেন, ক্লেইন-লেভিন সিনড্রোম একটি বিরল স্নায়বিক ব্যাধি। এর প্রধান লক্ষণ হলো হাইপারসোমনিয়ার পুনরাবৃত্তি, এতে আক্রান্তরা কয়েকদিন বা সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত ঘুমান। 

তিনি জানান, এই রোগ বিরল। প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ১ থেকে ৫ জনের ক্ষেত্রে এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, সম্ভবত রোগ নির্ণয়ের অভাব বা লক্ষণগুলোর অনন্য সংমিশ্রণের কারণে যা শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।

ক্লেইন লেভিন সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে ডা. চুঘের মতে, বেশ কয়েকটি কৌশল এই রোগ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন ঘুমাতে পারে। ঘুমের রুটিন বজায় রাখা এবং রোগী ও পরিবারের জন্য মানসিক সহায়তা দেওয়াও কার্যকরী পদক্ষেপ হতে পারে।