শিশুর দাঁতে সমস্যা? সমাধানে যা করবেন

বড়দের যেমন নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, তেমনি শিশুদেরও দাঁতের যত্নের প্রয়োজন। তবে শিশুদের দাঁতের যত্ন বড়দের তুলনায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

শিশুরা কিছুটা অস্থির প্রকৃতির হয়ে থাকে। তাই তারা বুঝে শুনে কোনো কাজ করে না। তারা সারাদিন খেলাধুলা ও ছুটোছুটি করে থাকে। এতে হঠাৎ শিশুরা মাথায় যেমন ব্যথা পেতে পারে, তেমনি দাঁতেও ব্যথা পেতে পারে।

শিশুরা যখন হামাগুড়ি দিতে শেখে, তখন এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এরপর বয়স যখন দু-তিন বছর হয়, তখন এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয়। অনেক সময় শিশুর দুধের দাঁতে আঘাত লাগলে তা ভেঙে গিয়ে মাড়ির ভিতর ঢুকে যায়। এতে মাড়িতে ক্ষত হতে পারে। এই ক্ষত যদি গভীর হয়, তাহলে সেখানকার কোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে, শিশুর দাঁতে আঘাতের পর যদি মাড়ি লাল হয় বা দাঁতে রং কালচে হয়, তখন সাবধান হওয়া প্রয়োজন।

সিকদার ডেন্টাল কেয়ারের দন্ত চিকিৎসক ডা. পূজা সাহা জানান, শিশুদের সাধারণত দাঁতের যেসব সমস্যা দেখা দেয় সেগুলো মধ্যে অন্যতম হলো—হঠাৎ আঘাতে দাঁত পড়ে যাওয়া, দাঁত ভেঙে যাওয়া কিংবা মাড়ির ভেতরে দাঁত ঢুকে যাওয়া। অনেক সময় শিশুর দুধের দাঁত আঘাতের কারণে মাড়ির ভিতরে ঢুকে যায়। এ সময় আঘাতের কারণ দাঁত পড়েও যেতে পারে। আবার অনেক সময় আঘাতের কারণে দাঁতের কিছুটা অংশ ভেঙে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দাঁতের ভিতরের পাল্প বেরিয়ে আসতে পারে। এই ধরনের আঘাতের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিশুর দাঁত থেকে রক্ত পড়তে পারে। তাই রক্ত পড়লে শুরুতেই রক্ত পড়া বন্ধ করতে হবে। যদি দেখা যায় দাঁত নড়ে গিয়েছে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর দাঁতের সমস্য্য়য় করণীয় হলো:

১. শিশুকে হালকাভাবে ব্রাশ করাতে হবে।

২. খুব বেশি শক্ত খাবার খাওয়ানো যাবে না।

৩. আইসক্রিমও খেতে পারে, এতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

৪. স্যুপ, কিংবা একটু নরম জাউ ভাত খাওয়ানো যাবে।

ডেন্টাল সার্জন ডা. পূজা সাহা মনে করেন, শিশুর দুধের দাঁতের ক্ষেত্রে যদি দাঁত মাড়ির মধ্যে ঢুকে যায়, তাহলে প্রথমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। অনেক সময় কিছু সময় পরে নিজ থেকেই দাঁত ঠিক হয়ে যায়। আবার স্থায়ী দাঁতের ক্ষেত্রে সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে। যদি দাঁতের ভিতরে পাল্প ইনজুরি হয়, তখন আগে পাল্প ইনজুরির ট্রিটমেন্ট করতে হবে, তারপর দাঁত ঠিক করতে হবে। আবার দাঁতের এনামেলে ক্ষয় হলে আগে দাঁতের ফিলিং করতে হবে।