হজমের সমস্যায় ভোগেন নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। একেকজনের হজমের সমস্যা একেক রকমভাবে দেখা দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা কম থাকে। আবার কারো ক্ষেত্রে হজমের সমস্যার কারণে দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটে।
এখন চলছে গ্রীষ্মকাল। দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়ছে। গরমের কারণে হজমজনিত সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা প্রয়োজন। তা না হলে হজমশক্তি কমে যেতে পারে। আবার খাদ্যাভ্যাসের কারণেও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন– সকালের খাবার না খেলে, দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে, একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খাবার খেলে, আবার কোনো বেলার খাওয়া বাদ দিলে হজমের সমস্যা হতে পারে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, হজমের সমস্যা একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা। হজমের ব্যাঘাত ঘটলে শরীরে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই হজমের সমস্যা দূর করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। যেমন:
১. প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার রাখতে হবে। অর্থাৎ উচ্চ ফাইবারযুক্ত শর্করা, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। এর পাশাপাশি অবশ্যই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
২. প্রতিদিন বাসায় তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ বাইরের অস্বাস্থ্যকর, তেলেভাজা, প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরের জন্য ভালো না। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিমাণ বাড়তে পারে।
৩. খাবার খাওয়ার সময় ভালোভাবে চিবিয়ে খান। এতে হজমের সহায়ক উৎসেচকগুলোর কার্যকারিতা বাড়বে। ফলে খাবার ঠিক মত হজম হবে এবং সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব।
৪. প্রতিদিন রং চা, আদা চা বা গ্রিন টি ১ বা ২ পান করতে পারেন। এসব পানীয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। তবে অনেক পরিমাণে না বার বার এগুলো পান করলে তা পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়।
৫. খাবারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। যেমন– মাংসের মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরপরই দুধ পান না করা। পেট ভরে ভাত খাওয়ার পরপরই ফল না খাওয়া। এতে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে।
৬. খাদ্য তালিকায় টকদই, পাকা কলা, খাদ্য আঁশযুক্ত শস্যজাতীয় খাবার রাখুন। এসব খাবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করবে ও অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে।
৭. এ ছাড়া নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি করুন। এতেও হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।