বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ডিমেনশিয়া। অন্যদিকে আলঝেইমার হলো স্নায়ু ক্ষয়জনিত অসুখ। এটি মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। ফলে ব্যক্তি স্মৃতি, চিন্তা, ভাষা এবং দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা হারাতে শুরু করেন।
এমন কিছু খাবার আছে যেগুলি নিয়মিত খেলে করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এতে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া আশঙ্কা কমে। যেমন– ফল ও সবজি, সামুদ্রিক মাছ, জলপাই তেল মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এসব খাবারের প্রদাহ-বিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সুস্থ রাখে। যা আলঝেইমার রোগ সহ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে।
বেরি
ফ্লাভোনয়েড হল এক ধরনের প্রাকৃতিক যৌগ, যা উদ্ভিদ এবং ফলে পাওয়া যায়। বেরি ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ ফল, যা মস্তিষ্ক সুরক্ষা করে। এছাড়া বেরিতে অ্যান্থোসায়ানিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-বিরোধী উপাদান রয়েছে। এতে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ এবং কোষগুলি সচল থাকে। বেরি জাতীয় ফল স্ট্রবেরি, রাসবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি
পালং শাকের মতো পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি বেশি খেলে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে এবং চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রচুর সবুজ শাকসবজি খান তারা দীর্ঘসময় ধরে মানসিকভাবে ভালো থাকেন। পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজিতে ভিটামিন কে, ফোলেট, লুটেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো পুষ্টি উপাদান থাকে। এসব উপাদান স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখে, প্রদাহ কমায় এবং আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
মাছ
মাছের শরীরে থাকা ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্মৃতিশক্তির বাড়াতে সহায়তা করে। বেশি পরিমাণে মাছ খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে। মাছ ওমেগা ৩ ফ্যাট সমৃদ্ধ, যা মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। ওমেগা-৩ যুক্ত মাছ যেমন স্যামন, টুনা, ম্যাকরেল ইত্যাদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
আখরোট
আখরোট পুষ্টিতে ভরপুর একটি খাবার। এতে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল থাকে। যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই উপাদানগুলো মস্তিষ্কের কোষকে রক্ষা করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত আখরোট খান তাদের আলঝেইমার এবং ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
জলপাই তেল
জলপাই তেল মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়। খাদ্যতালিকায় অল্প পরিমাণে জলপাই তেল যোগ করলেও স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তা করার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কম হতে পারে। জলপাই তেল প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। একই সাথে মস্তিষ্কের কোষ ভালো রাখে।
এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, শুধু এসব খাবার খেলেই যে আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করা যাবে, তা কিন্তু নয়। একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, যার মধ্যে সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অন্তর্ভুক্ত করলে এসব রোগের ঝুঁকি কম হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ