ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। যে কেউ যে কোনো সময় এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে, এ রোগ এখন বয়স দেখে হচ্ছে না। বয়স ও ওজনভেদে, যে কোনো সময় দেখা দিতে পারে।
শরীরে হরমোনের অপর্যাপ্ততা থাকলে ডায়াবেটিস হয়। এতে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। শরীরে ইনসুলিন বিষয়টি রক্তের শর্করার মাত্রার উপর নির্ভর করে না। রোগী কোন ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তার উপর নির্ভর করে ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা।
ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকা অনেক বেশি জরুরি। এ কারণে প্রয়োজন খাদ্যতালিকা তৈরি করে, সে তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিনের খাবার গ্রহণ করা।
এমন অনেক খাবার আছে, যা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। আসুন জেনে নিন, কোন কোন খাবার রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে।
১. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে বাদাম। বিশেষ করে কাঠবাদামে আছে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের আগে বাদাম খাওয়ার ফলে খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। ডায়াবিটিস রোগীদের শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে কাঠবাদাম খুবই উপকারী একটি খাবার।
৩. ছোলা প্রোটিনসমৃদ্ধ, যা রক্তে শর্করা কমাতে পারে। ছোলা কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বিশিষ্ট খাবার। কিছু গবেষণা পরামর্শ দেয়, প্রচুর পরিমাণে কম গ্লাইসেমিক খাবার গ্রহণ করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ উন্নত হতে পারে।
৪. চিয়া সিডে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। চিয়া সিড খাবারের পরে ক্ষুধার তীব্রতাও কমিয়ে দেয়।
৬. বেরিজাতীয় ফলের মধ্যে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে। তাই শর্করার মাত্রা কমাতে ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি ও ব্ল্যাকবেরি খেতে পারেন।
৭. জলপাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। জলপাই কম-গ্লাইসেমিক এবং কম-কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার। এতে স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে।
৮. গ্রীক দই একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ দুগ্ধজাত খাবার, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। গ্রীক দই প্রোটিনের উৎস। কম ফ্যাট ও চিনি ছাড়া খাবারের কথা চিন্তা করেন, তাহলে গ্রীক দই রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর জন্য ভালো খাবার হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ