পেটে বাড়তি মেদ কারোই ভালো লাগে না, কারণ এটি কেবল দেখতে খারাপ লাগে না, এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে বাড়তে পারে পেটের মেদ। পেটে বাড়তি মেদ জমা হলে সেখান থেকে নানা রোগ সৃষ্টি হতে পারে।
যদি পেটের মেদ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, তবে তা শরীরের অসুস্থতার খবর জানান দেয়। অনেকেই এর কারণ হিসেবে বয়সকে দোষারোপ করেন। তবে একথা সত্য যে, পেটে মেদ বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে।
পেটের মেদ বৃদ্ধিতে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উচ্চ আঁশ ও কম শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়া ক্ষুধা কমায়। বেশি পরিমাণে ফল ও সবজি খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে।
আসুন জেনে নিন, পেটের মেদ বৃদ্ধির কিছু কারণ।
১. কার্বোহাইড্রেট শক্তির উৎস। রুটি দিয়ে দিন শুরু করলে, এরপর দুপুরের ভাত এবং রাতের রুটি খেলে শরীরে নিজের অজান্তেই কার্বোহাইড্রেট জমা হতে থাকে। যখন শরীর অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করে, তখন তা দ্রুত শর্করাতে রূপান্তরিত করে। অনেক সময় এটি পেটের চারপাশে জমতে থাকে। তাই মেদ কমাতে রুটি, পাস্তা, ভাত ও আলু খাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এসবের পরিবর্তে আঁশ সমৃদ্ধ তাজা ফল, সবজি, শস্য, বাদাম, মটর, ডাল ও শাক সবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
২. স্ট্রেস, ঘুম শরীরের রসায়ন পরিবর্তন করে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পছন্দের খাবার বেশি খাওয়া এবং কম ঘুমের কারণে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) বৃদ্ধি পেতে পারে। কর্টিসল চর্বি জমা রাখে, বিশেষ করে পেটের চারপাশে। নিয়ম অনুসারে চললে, পর্যাপ্ত ঘুম হলে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মেদ ঝরানোর প্রক্রিয়া সহজ হয়।
৩. নিয়মিত হাঁটলে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ থাকে। সেজন্য হাঁটার বিকল্প কোনো কিছু নেই। তবে ঘাম ছাড়া হাঁটলে পেটের মেদ কমে না। এমনিতে হাঁটার কিছু সুবিধা আছে, তবে এটি পেটের চারপাশে চর্বি কমাতে পারে না। এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে পার্কে হেঁটেছেন, কিন্তু পেটের মেদ কমাতে পারেননি। চর্বি কমানোর জন্য দ্রুত হাঁটা, জগিং বা সাইকেল চালানো যেতে পারে। তবে তা দিনে কমপক্ষে ৪০ মিনিট।
৪. প্রক্রিয়াজাত খাবার ফাইবার নষ্ট করে দেয় এবং শরীরে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এতে হজমের গতি কমে , ক্ষুধা বাড়ে এবং চর্বি জমাতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা পেটের চর্বি কমাতে ফল, শাকসবজি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ শস্যের উপর মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
৫. অনেকের ক্ষেত্রে পেটে মেদ হবে কিনা তা অনেকটাই নির্ভর করে বংশগতির ওপর। সাধারণত বাবা মায়ের পেটে মেদ থাকলে পরে সন্তানেরও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ এবং জীবনযাত্রার অন্যান্য কারণগুলোও পেটে মেদ জমার পরিমাণকে প্রভাবিত করে। তাই বংশগতি থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া