এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সেরোটাইপ-টু এবং থ্রি দুটি ধরনই মিলেছে। এই দুটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৭শো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেরোটাইপ-টুতে। তবে পূর্ণাঙ্গ ধরন শনাক্ত না হওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
দেশে কত শতাংশ ডেঙ্গু রোগী কোন সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে তা শনাক্ত করে আইইডিসিআর। যার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।
২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০০ মানুষ ডেঙ্গুতে মারা যান। সেবছর ৭৫ শতাংশের বেশি সেরোটাইপ ডেন-টুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর ২০২৪ সালে ৭০ শতাংশ আক্রান্ত হন ডেন-থ্রিতে। এ বছর পাওয়া গেছে দুটো ধরনই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর চারটি ধরন রয়েছে। এরমধ্যে একটিতে পজিটিভ হলে পরবর্তীতে ওই ধরনটিতে আবারও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই। তবে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা হতে পারে গুরুতর।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘বরগুনাতে পেয়েছি সেরোটাইপ দুই এবং সেরোটাইপ তিন। আর টোটালটা হয়তো কয়দিন পরে পাওয়া যাবে। বরগুনাতে অনেক রোগী পাওয়া গেল, অনেকে মারা গেল। সম্ভবত বাংলেদেশে সেরোটাইপ দুই এবং তিন সারা দেশে আছে। পুরোটা কয়েকদিন পরে জানা যাবে।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, কোনো বছরই পূর্ণাঙ্গভাবে ডেঙ্গুর ধরন নির্ণয় করা যায়নি এখনো। যে কারণে প্রতিরোধে থেকে যাচ্ছে ঘাটতি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বলেন, ‘প্রমাণ যদি না থাকে তাহলে কোন টাইপে তারা আক্রান্ত হয়েছে, কত লোক কোন টাইপ দ্বারা কতবার আক্রান্ত হয়েছে, এগুলোর কোনো তথ্যই আমাদের কাছে নেই। তার মানে আমরা অন্ধকারে আছি। আমাদের এভিডেন্স জেনারেট করার জন্য প্রত্যেকবার টাইপিং করা দরকার। এটা জাতীয়ভাবে এমনভাবে করা দরকার, যাতে করে বাংলাদেশের পূর্ব চিত্র আমরা পাই।’
এ বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৯০৮ জন। আর প্রাণহানি ১১৮ জনের।