আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে কম বয়সীদের হৃদরোগে আক্রান্তের হার। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও হৃদ্রোগে ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ১৫ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে। কম বয়সীদের মধ্যে হৃদরোগ বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ক্যাথল্যাবের সামনে অপেক্ষা করছেন যাত্রাবাড়ীর গৃহিণী ফারহানা আক্তার। ৪০ বছর বয়সি গাড়িচালক স্বামী মনিরের বুকে ব্যাথা হলে দ্রুত নেয়া হয় হাসপাতালে।
ফারহানা আক্তার বলেন, ‘দুই মাস ওষুধ খাওয়াইছি। হঠাৎ করে কাজে গিয়ে তখন বুকে ব্যথা উঠে গেছে।’
জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘উনি হার্ডঅ্যাটাকে তিন ঘণ্টার মধ্যে এসেছেন।’
একই হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২১ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রী, জলিল। মহিলা ওয়ার্ডে পাশাপাশি ভর্তি ৩১ বছরের মাহমুদা ও ৩০ বছরের নুরুন্নাহার।
জলিলের বোন বলেন, ‘হাসপাতালে আসার পর ধরা পড়ল আমার ভাইয়ের হার্ডব্লক হয়েছে। এখন সুস্থ আছে, কিন্তু রিং পড়াতে হবে। এক মাস পড়ে এসে রিং পড়াতে হবে।’
হাসপাতালের তথ্য বলছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স কম।
জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইফতেখার আলম বলেন, ‘অনেক রোগী আমরা পাচ্ছি যাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে। ৪০ বছরের নিচে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, তেমনকোনো রিচ ফ্যাক্টর না থাকা সত্তেও তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই হার্টঅ্যাটাকগুলো সিভিয়ার ফর্মে আছে। ফেইলর বা অন্যান্য কমপিটিশন নিয়েও তারা আমাদের কাছে আসছেন।’
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘যে সমস্ত রিচ ফ্যাক্টরগুলো আসলে হৃদ্রোগ সৃষ্টি করে যেমন- তামাকের ব্যবহার, পিচকালিন অ্যাকটিভিটি, খাদ্যদ্রব্য, চর্বির অতিরিক্ত গ্রহণ, লবণ বেশি খেলে ব্লাডপ্রেসার বাড়ে।’
কম বয়সীদের এই রোগে আক্রান্তের কারণ জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ‘লাইফ স্ট্যাইল ফ্যাক্টর আছে, যেগুলো আমাদের হৃদরোগের সাথে জড়িত। আবার কিছু অংশ কিন্তু জেনেটিক ফ্যাক্টরেও আছে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ মতে, দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে। এর মধ্যে ৩৪ শতাংশ মারা যায় হৃদ্রোগে।