‘সিকাদা’ নামের করোনাভাইরাসের একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট শিশুদের সংক্রমিত করছে। তবে এটি এখন পর্যন্ত তেমন কোনো গুরুতর রোগ তৈরি করেনি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কোভিডের সংক্রমণ তেমন একটা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রন পরিবারভুক্ত ‘বিএ.৩.২’ বা ‘সিকাদা’ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। একটি পতঙ্গের নামানুসারে করোনার নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য বলছে, সিকাদা এরই মধ্যে ২৩টি দেশে ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে নর্দমার পানিতে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিডের প্রচলিত টিকাগুলোই নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে। তাই এই মুহূর্তে নতুন টিকার প্রয়োজন নেই।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যালক্স গ্রেনিঞ্জার জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম এই ভ্যারিয়েন্টটি ধরা পড়ে। বিশ্বে এটি খুব বেশি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন না তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবোশ ইউনিভার্সিটির ড. তুলিও ডি অলিভেরা বলেন, ‘কোভিডের আগের টিকাগুলোই এর বিরুদ্ধে কার্যকর। এখন পর্যন্ত এতে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।’
নাম ‘সিকাদা’ হলো কেন?
নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের নাম সিকাদা দেওয়ার একটি বড় কারণ এটি দীর্ঘ সময় পরপর ফিরে আসে। ২০২১ সালের শেষে করোনার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ওমিক্রনের পাঁচটি প্রধান শাখা দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে বিএ.৩ শাখাটি ২০২২ সালের পর রহস্যজনকভাবে মিলিয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, দীর্ঘ দুই বছর এটি কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির শরীরে সুপ্ত অবস্থায় ছিল এবং বিবর্তিত হয়ে নতুন রূপে ফিরে এসেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে প্রথম সিকাদা শনাক্ত হয়। মূল ভাইরাসের তুলনায় এর স্পাইক প্রোটিন ৫৩টি এবং ২০১৯ সালের আদি ভাইরাসটির চেয়ে এর প্রায় ৭০ বার পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়েছে।
জার্মানিতে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত করোনা আক্রান্তদের ৩০ শতাংশের জন্য নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট দায়ী। মাউন্ট সিনাই’র আইকান স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ড. ফ্লোরিয়ান ক্র্যামার জানান, তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে বর্তমান টিকাগুলো এর বিরুদ্ধে বেশ কার্যকর।
শিশুদের ওপর প্রভাব
বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই ভ্যারিয়েন্টটি বড়দের তুলনায় শিশুদের বেশি সংক্রমিত করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞ অলিভেরা বলেন, ‘৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা এতে বেশ কার্যকরভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এটি কেন হচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।’
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় সিকাদায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।