চট্টগ্রামে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বিরল এক ভাইরাস জাপানিজ এনকেফালাইটিস। চিকিৎসকরা বলছেন, এর প্রাথমিক উপসর্গ জ্বর, মাথা ব্যাথা ও খিঁচুনি। চট্টগ্রাম মেডিকেলের ছয় মাসের গবেষণায় শনাক্ত হয়েছে তিনজন রোগী। কিন্তু ভাইরাসটি শনাক্তে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে চিকিৎসকরা।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে মারা যান ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা যুথী। এরপর আলোচনায় আসে, বিরল জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভাইরাস। চিকিৎসকরা সম্ভাব্য কারণ মনে করলেও পরীক্ষায় যুথীর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাসটি কিউলেক্স প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এসব মশা বুনো শুকর ও পাখি থেকে ভাইরাস বহন করে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। পরে তা মানুষের মস্তিষ্কে ছড়িয়ে রোগীকে দ্রুত কোমায় নিয়ে যায়।
চমেকহা নিউরোমেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘শরীরে কী যেন হচ্ছে, কিংবা শরীরের কোনো একটা সাইট খুব দুর্বল মনে হচ্ছে–এমন বোধ হলে এক মুহূর্তও দেরি না করে নিউরোলোজিতে অবশ্য চলে যাওয়া উচিৎ।’
এ নিয়ে গবেষণা করেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। ৭৫ রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ৩ জনের দেহে এনকেফালাইটিস ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে উপসর্গ অনুযায়ী। জ্বরের সাথে খিচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
গবেষক ও চিকিৎসক ডা. আসিফুল হক বলেন, ‘আমরা একটি রোগীর এমআরআই দেখে সাসপেক্ট করেছি জাপানিস এনকেফালাইটিস ভাইরাস হতে পারে। তিনজন রোগী এখান থেকে পেয়ে, তাদের এখান থেকে চিকিৎসা দিয়ে ভালোও হয়েছে।’
এরই মধ্যে চট্টগ্রামে কয়েকটি কেন্দ্রে এনকেফালাইটিস ভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে রক্তের নমুনা দিতে হবে সরকারি হাসপাতালে।
সেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মহাব্যবস্থাপক পুলক পারিয়াল বলেন, ‘জিকা ভাইরাসসহ অন্যান্য ভাইরাসগুলো নিয়ে আমরা কাজ করেছি। সম্প্রতি নতুন এই ভাইরাস নিয়ে কথা হচ্ছে, আশা করি এটা নিয়েও আমরা কাজ শুরু করতে পারব। তবে সরকারের নির্দেশনা আছে যে মেডিকেল কলেজগুলোতে গেলে উনারা এইটা রিবিভ করবে।’
উন্নত বিশ্বে এই ভাইরাস প্রতিরোধে টিকার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে নেই।