সিলেটে বাড়ছে হামের প্রকোপ, শিশু ওয়ার্ডে জায়গা সংকট চরমে

আশঙ্কাজনক হারে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বাড়তি রোগীর চাপে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় তৈরি হয়েছে নাজুক পরিস্থিতি। শিশু ওয়ার্ডগুলোতে রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এমন সংকটের মধ্যেই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালে নির্মিত ২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতালটি এখনো চালু না হওয়ায় বেড়েছে দুর্ভোগ। 

এই প্রেক্ষাপটে সিলেটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে জায়গা সংকটের কারণে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। 

এমন পরিস্থিতিতে বছর তিনেক আগে নির্মিত, চালুর অপেক্ষায় থাকা সিলেট জেলা হাসপাতালটি হতে পারতো বিকল্প ভরসা। একদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর গাদাগাদি, অন্যদিকে নতুন হাসপাতালটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

এমনই একজন জানালেন, এখানে খুব বেশি চাপ। এই দেখেন রোগীরা টিকিটের জন্য কীভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। 

নতুন জেলা হাসপাতালটি চালুর তাগিদ দিলেন স্থানীয় আরেক জন। বললেন, জেলা হাসপাতালটা যদি চালু হয়ে যায়, আমাদের সিলেট নগরবাসী পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাবে। 

নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন ও জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হলেই চালু করা হবে নতুন জেলা হাসপাতালটি। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নুরে আলম জানান, আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই চালু হবে নতুন জেলা হাসপাতাল।

হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য সিলেটের শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালকে ডেডিকেটেড (আলাদা) করা হয়েছে। সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, 'আমাদের ১০০ শয্যার হাসপাতাল, মোটমুটি রোগীর সংখ্যা এরকমই থাকছে কিছুদিন যাবৎ। চিকিৎসার ব্যাপারে আমাদের চিকিৎসক, নার্সিং অফিসার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা হয়তো সেবাটি আরও সুন্দরভাবে দিতে পারব।'

প্রায় ৭ একর জায়গার ওপর নির্মিত ২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতালটি দ্রুত চালু করে স্বাস্থ্যসেবায় চাপ কমানোর দাবি স্থানীয়দের ।