ডেঙ্গুর মারাত্মক ঝুঁকিতে ঢাকাসহ ৪ জেলা

এডিসের মারাত্মক ঝুঁকিতে দেশের চার জেলা- ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার। এখানে ব্রুটো ইনডেক্সে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব ৭৬ থেকে ৯৩ পর্যন্ত মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণায় মিলেছে এই তথ্য। 

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জরিপেও দেখা গেছে ২৮টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছর ভয়াবহ হতে পারে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। এক্ষেত্রে নগরবাসীর সহায়তা চেয়েছেন ঢাকার দুই প্রশাসক।  

এডিসের ঘনত্ব জানতে গত এক মাস ধরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল। ৪৮ শতাংশ এডিসের লার্ভা মিলেছে ভবনের পার্কিং এবং বেজমেন্টে। ১৬ শতাংশ মিলেছে নির্মানাধীন ভবনে। ঢাকার কোন কোন এলাকাতে এডিসের ঘনত্ব ব্রুটো ইনডেক্সে ৯৩। 

এছাড়া ব্রুটো ইনডেক্সে কক্সবাজার, বরিশাল এবং নরসিংদীতে লার্ভার ঘনত্ব ৭৬ থেকে ৯৩। উল্লেখ্য, ব্রুটো ইনডেক্সে ২০ এর বেশি হলেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, ভবনের পার্কিং, বেইজমেন্ট ও জমিয়ে রাখা পানির ড্রাম ও বালতির দিকে নজর দিলে ৭০ শতাংশ এডিস কমানো সম্ভব। এবছর এডিস বাড়বে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, 'ঈদের আগের তুলনায় ঈদের পরে ডেঙ্গু রোগী প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার একটি ঝুঁকি আছে। এই দ্বিগুণ হওয়াটা ঠেকাতে এই মুহুর্তে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভাগুলোকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমগুলো জোরদার করা দরকার।' 

এদিকে, প্রথমবার এডিসের লার্ভার ঘনত্ব জানতে জরিপ চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সেই জরিপে ৭৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডে এডিসের উপস্থিতি বেশি মিলেছে। ঢাকার দুই প্রশাসক বলছেন, এডিস প্রতিরোধে দরকার জনসচেতনতা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘১৫ দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলবে প্রতিটি এলাকায় এলাকায়। এগুলোকে দেখভাল করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা একটি সমন্বয় কমিটি করে দিয়েছি। এটা অনেকটা নির্ভর করবে জনগণের সচেতনতার ওপরে। যার যার বাড়িঘরটা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে বৃষ্টির পানি দু'দিন জমে না থাকে, সেটাকে পরিষ্কার রাখতে হবে।’

নগরবাসীর সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'ফুলের টব বা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি ফেলে দিয়ে সেটাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। একইভাবে অনেক সময় দেখা যায়, বাথরুমে পানি জমা থাকে। কোথাও কেউ ছুটিতে চলে যায়। আবার দেখা যায়, ৪৮ ঘন্টা বা ৭২ ঘন্টার জন্য পানিটা স্থবির হয়ে আছে। সেখানে লার্ভার সৃষ্টি হয়। এজন্য আমার প্রিয় নগরবাসীর কাছে অনুরোধ থাকবে, এই সচেতনতাটা যদি আমাদের মধ্যে আসে, তাহলে দেখবেন ডেঙ্গু ইনশাআল্লাহ্‌ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।'

এদিকে, মৌসুমের প্রথম দিনেই ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু হলো।