প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন) ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (ICM) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ৩ দিন ব্যাপী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই সম্মেলনে ১০০টিরও বেশি দেশের সরকার, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মিডওয়াইফ, উন্নয়ন সহযোগী এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি সেবার উন্নয়নে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ তুলে ধরছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাস্থ্যখাত রূপান্তরের সাহসী ভিশন—যেখানে চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উত্তরণের মাধ্যমে একটি “সুস্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ” গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা হবে। জটিলতামুক্ত প্রসব এসব প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার নারীরাও ঘরের কাছেই নিরাপদ মাতৃসেবা পেতে পারেন।
এই উদ্যোগকে সফল করতে সরকার দেশের প্রতিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে কমপক্ষে দুইজন করে মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং অন্যান্য উচ্চতর স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংখ্যক মিডওয়াইফ পদায়নের মাধ্যমে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
সরকার আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ২৫,০০০ মিডওয়াইফ নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই বৃহৎ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও পেশাদার মিডওয়াইফারি কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে চায়, যা মাতৃমৃত্যু ও নবজাতক মৃত্যুহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া মিডওয়াইফারি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিক পাঠক্রম প্রবর্তন, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের মিডওয়াইফরা বর্তমান ও ভবিষ্যতের মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণ উপলক্ষে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, মিডওয়াইফরা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষার প্রথম সারির যোদ্ধা। একটি সুস্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কেন্দ্রে মিডওয়াইফদের স্থান দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি মা নিরাপদ গর্ভধারণ, নিরাপদ প্রসব এবং মানসম্মত পরবর্তী সেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা বাংলাদেশের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শুধু স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ।
ড. হায়দার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে মিডওয়াইফারি পেশার বিকাশে উন্নয়ন সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও প্রশংসা করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর দীর্ঘদিনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতেও UNFPA এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে মিডওয়াইফারি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, নিয়োগ ও সেবার মান উন্নয়নে অগ্রসর হবে।
সম্মেলন চলাকালে ড. হায়দার বিভিন্ন সেশন ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বক্তব্য রাখবেন এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থা, পেশাজীবী সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকের মাধ্যমে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন, জ্ঞান বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে যে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, দক্ষ মিডওয়াইফারি কর্মীবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ, মানসম্মত এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি