বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার লুক্সেমবার্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। ইআইবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থুরাইয়া ত্রিকি। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুল রহিম সাকি ঢাকা থেকে অনলাইনে মিটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের ক্রমবর্ধমান বোঝা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য ইআবি’র বিদ্যমান একটি ঋণ পুনর্বিন্যাস করার বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়। এ উদ্যোগ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের “সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা” নিশ্চিত করার ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, নবজাতক ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইআইবি’র সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। নিরাপদ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ইআইবি’র সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করার লক্ষ্যে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের এই আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বৈঠকে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের চিফ অব স্টাফ এবং বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ’র কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নারীস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়।