ঢাকা মেডিকেল, সোহরাওয়ার্দী, মিটফোর্ড, বার্ন ইনস্টিটিউসহ সরকারি কোনো হাসপাতালেরই নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার নেই। এতে সংক্রমিত বর্জ্যের ৮৪ শতাংশ ছড়িয়ে পড়ছে পরিবেশে। এছাড়া তরল বর্জ্য সুয়ারেজ লাইন, ড্রেন ও নদীতে পড়ে দূষিত করছে প্রাণ-প্রকৃতিকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বর্জ্য উৎস স্থলে পৃথক ও পরিশোধন না করায় ছড়িয়ে পড়ছে কলেরার মতো ভাইরাসবাহিত রোগ।
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের কাছে, সিটি করপোরেশনের এই সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন। এখানে সাময়িকভাবে বাসাবাড়ির আবর্জনা রাখার কথা। তবে প্রতিদিন, এখানে জমা হয় ২৬০০ শয্যার ঢাকা মেডিকেল এবং ৫০০ শয্যার বার্ন ইনস্টিটিউটের বর্জ্য।
একজন বর্জ্য সংগ্রহকারী বলেন, স্যালাইন–ফিসকারি এগুলি আলাদা করি। আর স্যালাইন আলাদা করি। তারপরে মালামাল মেপে জায়গামতো পাঠিয়ে দেই।
আরেকজন বর্জ্য সংগ্রহকারী বলেন, মাঝেমধ্যে কাটা হাত–পা পাওয়া যায়। সুঁই–সিরিঞ্জও আসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সারা দেশের হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৮০০ টন কঠিন বর্জ্য ও ৩ লাখ লিটার তরল বর্জ্য বের হয়। এর প্রায় পুরোটাই ব্যবস্থাপনা করে সিটি করপোরেশন কিংবা পৌর কর্তৃপক্ষ।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা নেই। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, এ নিয়ে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাষ্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা কিন্তু মেডিকেল বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য আলাদা করে দিয়েছি। কিন্তু এই মেডিকেল বর্জ্য যেভাবে নিয়ে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে সেটা কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত নয়। আমরা এমনও দেখেছি, অপরেশনের পর যে রক্তমাখা সরঞ্জাম সেটাও চলে গেছে স্যুয়ারেজে। অন্য স্যুয়ারেজের সাথে এটা মিশে পানির লাইনে যাচ্ছে। এটা জীবাণু ছড়াচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.আসাদুজ্জামান বলেন, সঠিক পদ্ধতিতেই বর্জ্য ট্রিটমেন্টটা করতে হবে। যদি আমরা অধিকাংশ মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে চাই। বড়হাসপাতালগুলোর নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শহর তো বটেই, উপজেলা পর্যায়েও ময়লার ভাগাড়ে হাসপাতালের বর্জ্য ফেলার কারণে, সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে নানা জীবাণু। তাই উৎস থেকেই বর্জ্য পরিশোধনের তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, আমাদের যদি বায়ুতে দূষণ যায় তাহলে শ্বাস–প্রশ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি আমাদের শরীরে ঢিকে যাচ্ছে। সুতরাং আমার মনে হয়, এটা যদি আইন না করা হয়, এটার জন্য যদি নীতিমালা না করা হয় বা হাসপাতালের অনুমোদনের শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা না হয়–তাহলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।
মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ আইনে বিধিমালা যুক্ত হয় ২০০৮ সালে। কিন্তু ১৮ বছরেও সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও, বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান, সীমিত আকারে মেডিকেলের কঠিন বর্জ্য পরিশোধন করে। তবে তরল এবং রাসায়নিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সরাসরি নদী এবং জলাধারে।