১১৭ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের বেশির ভাগই বাজারে নেই

দেশে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের বড় একটি অংশই বাজারে নেই। ফলে প্রেসক্রিপশন হাতে এক ফার্মেসি থেকে অন্য ফার্মেসিতে ছুটেও মিলছে না অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এসব ওষুধ। উৎপাদকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান এ ওষুধ উৎপাদন করছে না। আর ঔষধ প্রশাসন বলছে, সংকট কাটাতে দ্রুত নেওয়া হবে দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ।

রাজধানীর গ্রিনরোডে প্রেসক্রিপশন হাতে ওষুধের খোঁজে এক ফার্মেসি থেকে আরেক ফার্মেসিতে ছুটছেন এক রোগীর এই স্বজন। কোথাও নেই ওষুধ।

রোগীর ওই স্বজন বলেন, ‘ডাক্তার ওষুধ লিখে দিয়েছেন। কয়েকটা দোকানে খুঁজেছি, কিন্তু পাচ্ছি না। এখন কোথায় পাব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’

শুধু রোগী বা স্বজন নয়, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংকটের কথা জানালেন দোকানিরাও। সবচেয়ে বেশি সংকট কম দামের প্রয়োজনীয় ওষুধের।

ওষুধের এক দোকানি বলেন, ‘তুলনাভাবে কম পাওয়া যায়। আমরা কোম্পানির লোকদের প্রশ্ন করলে তারা শর্ট সাপ্লাইয়ের কথা বলেন।’

দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ১১৭টি। এরমধ্যে মিলছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ ধরনের ওষুধ, তাও সব দোকানে নয়। কিন্তু কেন তৈরি হলো এ সংকট। উৎপাদকদের দাবি, কাঁচামাল এবং উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। তবে সমন্বয় হয়নি দাম। 

ঔষধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘৭৭-৭৮ টাকা এমআরপি আর সেই ওষুধ বানাইতে লাগে ১৪০ টাকা। এখন আমি এইটার কি করবো? আমি কি ১৪০ টাকা দিয়ে ওষুধ বানিয়ে ৭৭ টাকায় বিক্রি করব? আমরা কি করতেছি! সার্জনদের এইটা লাগে, উনাদের চাপে আমাদের এইটা বানাইতে হয়। তখন আমরা যে সার্জনরা অ্যান্টিবায়োটিক লেখে ওইটাতে যে লাভ হয়, সেই টাকা দিয়ে আমরা ভর্তুকি পূরণ করি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি দুই বছর পর পর সরকার নির্ধারিত একটি মূল্য নির্ধারণ নীতি থাকবে এবং এইটা যেভাবে বলা থাকবে সেভাবে প্রতিনিয়ত এটা আপডেট করতে হবে, সমন্বয় করতে হবে।’  

উৎপাদন কমে যাওয়ায় সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন রোগীরা। ওষুধ না পেয়ে কারও চিকিৎসা পেচ্ছাচ্ছে, আবার কেউ বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে কিনতে। 

ঔষধ প্রশাসন বলছে, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে দাম সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘জনবল, কাঁচামাল সবকিছু মিলে যে বিষয়গুলো কনসার্ন সেগুলোর মূল্য আসলে বেড়ে গেছে। সুতরাং সে দিক বিবেচনায়ও এই মূল্যটা যদি সময় সময় উৎপাদনের সাথে সংগতিপূর্ণ না হয়, তাহলে একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে লস দিয়ে ওষুধ উৎপাদন দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া ক্ষতি।’

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংকট কাটাতে ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ রোগী ও স্বজনদের।